আগে বিশ্ববিদ্যালয়টা প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হোক তারপর না হয় র‌্যাংকিং

দেশের শিক্ষার মান দিন দিন খুবই নিম্ন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একই ‘চোতা’ পড়াচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মহান’ শিক্ষকরা। সেই চোতা পড়াতে পড়াতে লাল হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে কথা বললে শিক্ষকরা বলেন, নম্বর কার হাতে সেটা নিশ্চয় জানো।

সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছাত্রলীগের সিট বাণিজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচি থেকে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও নিপীড়ন বন্ধ এবং শিক্ষাঙ্গণে নৈরাজ্য বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, আমরা যে বিষয় নিয়ে আজকে দাঁড়িয়েছি সেটি একটি মীমাংসিত বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে। তারা সেখানে থেকে পড়াশুনা করবে। কিন্তু আজ সেখানে ব্যত্যয় ঘটেছে।

‘আমরা একটা ইনফ্রাস্টাকচারের মধ্যে আছি। যেখানে বিল্ডিং আছে, গাড়ি আছে, আইন আছে কিন্তু বিশ^বিদ্যালয় নাই। বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা দিনের পর দিন শেষ করে ফেলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে রেগুলার ক্লাস হয় না অথচ সান্ধ্যকালীন ক্লাস ঠিকই হচ্ছে। সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা শিক্ষকরা নিজেদের পকেটে পুড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা গবেষণার কথা বলছি কিন্তু কিসের গবেষণা, শিক্ষকরা তো ঠিকমত ক্লাসই নেন না দিনের পর দিন। শিক্ষকরা খাতা কাটে না, খাতা ঠিকমত মূল্যায়ন করেন না, তাদের কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর রেজাল্ট হয় না। ক্যাম্পাসে শুক্রবার শনিবার মেলা বসে। সিঙ্গারা ভাজার গন্ধে ঠিকমত ক্লাস নেওয়া যায় না। হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কি খাচ্ছে? এসব বিষয় নিয়ে কথা না বলে শুধু হলের আবাসিকতা নিয়ে কথা বলে কোনো লাভ নাই। এসব বিষয় ঠিক হলে আবাসিক সমস্যা এমনিতেই ঠিক হবে।

মানববন্ধনে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে অধিকাংশ বৈধ শিক্ষার্থীরা সিট পাচ্ছে না। আবার যারা পাচ্ছে তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ চাঁদা দিয়ে পাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ৫০ জন প্রতিবাদী শিক্ষক থাকত তাহলে মনে হয় কেউ এসব অনিয়ম করে পার পেত না।

তিনি আরও বলেন, ইদানিং বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিসের র‌্যাংকিং? আগে বিশ্ববিদ্যালয়টা তো প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হোক তারপর না হয় র‌্যাংকিং। যেখানে আত্মীয়তা, আঞ্চলিকতা, রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ হয় সেটাকে র‌্যাংকিংয়ের মধ্যে ফেলবেন কী করে?

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী তার মৌলিক অধিকার নিয়ে চলাচল করতে পারে না সেটা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে না’ বলেন তিনি। মানববন্ধনে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় দুইজন বীর মুক্তিযোদ্ধা অভিভাবকসহ অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ, রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন্না প্রমুখ।

Back to top button