অসংখ্য শিশুকে হত্যা, নখ-দাঁত তুলে নির্যাতন!

অসংখ্য শিশুকে হত্যা, নখ-দাঁত তুলে নির্যাতন!

মিয়ানমারে গত বছরের অভ্যুত্থানের পর থেকে অসংখ্য শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। সংঘাত কিংবা ক্রসফায়ার ছাড়াও ইচ্ছা করেই সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অকথ্য নির্যাতন চালায় শিশুদের ওপর। নির্যাতনের সময় জান্তা সদস্যরা শিশুদের নখ-দাঁতও তুলে দেয়। মঙ্গলবার জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্স।

মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার টম অ্যান্ড্রুজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবালকদের মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় নখ বা দাঁত তুলে ফেলা হয়েছে। অনেককে দেওয়া হয়েছে প্রহসনমূলক মৃত্যুদণ্ড ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের ওপর জান্তার ভয়াবহ আক্রমণ জেনারেলদের দৌরাত্ম্য প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। জনগণকে বশীভূত করতে কিংবা আতংক ছড়াতেই নিরপরাধ শিশুদের ওপর চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। জাতিসংঘ মনে করে, শিশুদের ওপর জান্তার এই হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের কারণ।

গত বছরের গোড়ার দিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকে মিয়ানমার চরম অশান্তিতে রয়েছে। জান্তা সরকারের বিরোধীদের ওপর চালানো হয়েছে ভয়ঙ্কর দমন-পীড়ন। যা নবগঠিত প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো পাল্টা হামলার মাধ্যমে প্রতিশোধ নিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ এবং সেনাপন্থী মিলিশিয়ারা ১৪২ শিশুকে ভয়াবহ নির্যাতন করেছে। জান্তাদের মধ্যে শিশু শ্রমিক নিয়োগ বৃদ্ধির ঘটনাও ঘটেছে।

টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, জান্তাকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিশ্বের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে অবশ্যই মিয়ানমারের সঙ্কটে সাড়া দিতে হবে, যেভাবে তারা ইউক্রেন সংকটে সাড়া দিয়েছে।

Back to top button