বিপর্যস্ত সিলেট ডুবছে নেত্রকোনা

বন্যায় ৬ জনের মৃত্যু । উত্তরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত । বিপদসীমা ছাড়িয়েছে ১১ নদীর পানি । পদ্মা মেঘনা যমুনা ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়ছে । ভারী বর্ষণ থাকবে আরও ২-৩ দিন । বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অনেক এলাকা । সিলেটের সঙ্গে প্রায় সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়ে ভাসছে সিলেট নগরীর আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। গতকালের ছবি – আমাদের সময়

পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চোখের পলকে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। বিদ্যুৎ সংযোগসহ সড়ক ও রেল যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নেই মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও। পর্যাপ্ত আলো নেই, শুকনো খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানির হাহাকার, হাসপাতাল- বিমানবন্দর-রেলস্টেশনে বন্যার পানি-সব মিলিয়ে এক মহাবিপদে পড়েছে সিলেট অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। ভালো নেই উত্তরাঞ্চলের মানুষও। সেখানেও একের পর এক জনপদ বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে। আগামীকাল সোমবারের আগে সেখানকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা।

সিলেট-সুনামগঞ্জের পর হাওরের আরেক জেলা নেত্রকোনাও ডুবছে। এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে দেশের ১১ নদীর ১৭ পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ওপরে উঠেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আশঙ্কা, উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় ও আসামে প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তবে সোমবার থেকে পানি ভৈরব বাজার হয়ে নেমে যাবে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আর দেশের উত্তরাঞ্চলে আরও তিন থেকে চার দিন বন্যার পানি বাড়বে। যমুনা অববাহিকায় পানি বাড়তে থাকবে। তবে পরিস্থিতির খুব একটা অবনতি হবে না।

চলতি মৌসুমে এটা সিলেটে তৃতীয় দফা বন্যা। ভারতের মেঘালয় ও আসামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে এবার পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের হিসাব বলছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় ৪০ লাখের মতো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মুজিবুর রহমান শনিবার বলেন, অনেক মানুষ পানিবন্দি, কিন্তু নৌকার অভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে পারছে না। বন্যায় অনাহারে থাকা লোকজন এখন কেবল প্রাণে বাঁচতে চান। কিন্তু একটি নৌকা মেলানো তাদের কাছে এখন সোনার হরিণ।

গোয়াইনঘাট উপজেলার আলিরগাঁও এলাকার আজিজ মিয়া বলেন, উপজেলার প্রায় শতভাগ মানুষ পানিবন্দি। কেউ ত্রাণ চায় না, প্রাণে বাঁচতে চায়। কিন্তু তাদের উদ্ধারের জন্য নৌকা পাওয়া যাচ্ছে না। এমন ভয়ানক দুর্যোগ গত কয়েক দশকে দেখেননি বলে জানা তিনি।

পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী মাঠে নেমেছে। বানভাসি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হলেও সেখানে মুড়ি ছাড়া খাবার ও পানি জুটছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া জেলা ও নগরীর বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোয় মানুষের ঘরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট চরমে পৌঁছেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুরমা ছাড়া দেশের প্রধান প্রায় সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর গাণিতিক মডেলভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি স্থানে মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা, সুরমা, কুশিয়ারা, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ সব প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। আর এর ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে। কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধরলা, দুধকুমার, সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, খোয়াই, পুরাতন সুরমা, সোমেশ্বরী ও কংস নদীর ১৭ পয়েন্টের পানি এখন বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা আছে দুই পয়েন্টের পানি। পুরাতন সুরমার দেরাই পয়েন্টের পানি এবং কংস নদীর জারিয়াঞ্জাইল পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণবাগে ২২৬ মিলিমিটার। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার ও ভৈরববাজারে ১৭৫ মিলিমিটার, সিলেটের জকিগঞ্জে ১৫০ ও মনু রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ১৪৫, সিলেট পয়েন্টে ১৪৩, হবিগঞ্জে ১৪৮ এবং সিলেটের শেরপুরে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বৃহস্পতিবার থেকে। গতকাল দুপুর থেকে সিলেটেও বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। তবে রাত ৯টা থেকে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বাকি দুই জেলা মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও পৌঁছে গেছে বন্যার পানি। বন্যার পানির কারণে শুক্রবার বিকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গতকাল দুপুরে সিলেট রেলস্টেশনও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে সারাদেশের সঙ্গে আকাশ ও রেলপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সিলেট।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ১৯৯৮ সালের জুন মাসে সিলেট বিভাগে অনেকটা এমন বন্যা হয়েছিল। কিন্তু এর পর বেশিরভাগ বন্যা মূলত হাওর ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ ও সিলেট শহরে দুই-তিন দিনের জন্য আকস্মিক বন্যা হয়। কিন্তু পুরো সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হওয়ার মতো বন্যা হয়নি।

বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। কলেজের অধ্যক্ষ ড. মঈনুল হক বলেন, আবাসিক হল ও কলেজে পানি ঢুকে পড়ায় আপাতত কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে ক্লাস ও পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে হল ছাড়তে শুরু করছেন।

সিলেটে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা গেছেন যুবলীগ নেতা টিটু চৌধুরী। গতকাল দুপুরে নগরের শাপলাবাগে নিজ বাসার সামনে পানির নিচে ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। সিলেট ফায়ার সার্ভিসে ছুটি বাতিল : জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেটের সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে মোতায়েন রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় গত শুক্রবার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে অধিদপ্তর থেকে সিলেটে ‘জেমিনি বোট’ পাঠানো হয়। জেমিনি বোটের সাহায্যে গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে আটকেপড়া মানুষজনকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।

এদিকে আমাদের সময়ের কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, সেখানে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দি মানুষজনকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী কাজ করছে। তবে নোকা সংকটের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রেও লোকজনের সংকুলান হচ্ছে না।

রংপুর ব্যুরো জানায়, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বাড়া-কমার মধ্যে রয়েছে তিস্তার পানি। তিস্তার তীরবর্তী রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপ চরে বন্যা দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় পানি কমলেও দেখা দিয়েছে ভাঙন। শুক্রবার সকালে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে দুপুর থেকে গঙ্গাচড়া, পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে কয়েক হাজার পরিবার।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, তিস্তা নদীর পানি গতকাল সন্ধ্যায় বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্রিজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৫ সেন্টিমিটার। তবে গতকাল সন্ধ্যায় পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ০৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক (বগুড়া) জানান, সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলায় মথুরাপুর পয়েন্টে ১৬ দশমিক ৯০ মিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৭০ মিটার।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, আজমিরিগঞ্জ, বানিয়াচঙ্গ ও নবীগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বানভাসি মানুষ গবাদিপশু নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে স্থানীয় স্কুল-কলেজে আশ্রয় নিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহরের হার্ডপয়েন্ট ৪২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার কাজিপুর পয়েন্ট যমুনার পানি ৩৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ৩৪৫ হেক্টর ফসলি জমি ডুবে গেছে। দশানী, জিঞ্জিরাম ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের মানুষ।

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ অন্য নদ-নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক (কুড়িগ্রাম) জানান, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সদর, উলিপুর, ফুলবাড়ী, চিলমারী, নাগেশ^রী ও রাজারহাট উপজেলার অন্তত ৪০ হাজার মানুষ।

বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, সেখানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে পানির তীব্র চাপে উপজেলার অতিতপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি রেলব্রিজ ভেঙে যায়। এতে ঢাকা-মোহনগঞ্জ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানির চাপে জানালীহাট এলাকায় ডাবুয়া খালের পাড় ভেঙে মানুষের বাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকেছে। পৌর সদরের থানা রোডে হাঁটু পানিতে মানুষ চলাচল করছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র করার নির্দেশ : বন্যাদুর্গত এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (স্কুল ও কলেজ) অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। গতকাল মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রয়োজনে সড়ক কাটার নির্দেশ : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিলেটে বন্যার পানি অপসারণে প্রয়োজনে রাস্তা কেটে ফেলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান। সিলেট অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, সিলেটের বন্যাদুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার পাঠানো হচ্ছে। আর মন্ত্রণালয় থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

‘১২২ বছরে এমন বন্যা হয়নি’ : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, বন্যাকবলিত এলাকার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। ১২২ বছরের ইতিহাসে সিলেট ও সুনামগঞ্জে এমন বন্যা হয়নি বলে মানুষ বলছে। গতকাল সচিবালয়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

১১ জেলায় টাকা ও খাবার বরাদ্দ : ১১ জেলার বন্যা দুর্গতের জন্য ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ৪০০ টন চাল এবং ৪১ হাজার প্যাকেট খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে এই ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ হয়েছে। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লুৎফুন নাহারের স্বাক্ষরে বরাদ্দের বিস্তারিত বিবরণী গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। গত বুধবার থেকে গতকাল পর্যন্ত এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এ বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিপিবির সহায়তাকেন্দ্র : বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য প্রদান ও যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সহায়তাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সহায়তাকেন্দ্রের ফোন নম্বর ০১৭১১৪৩৮১৮১ ও ০১৭১১৫৯৪১১৯। বন্যার্তদের জন্য সিপিবির সহায়তা তহবিলে অর্থ পাঠানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে। হিসাব নম্বর ০০০০০০০২১১০৮৬২, জনতা ব্যাংক, পুরানা পল্টন শাখা, ঢাকা।

Back to top button