বাবা বেঁচে আছেন, এটাই বড় সান্ত্বনা

বাবা দগ্ধ হওয়ার পর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল। কিভাবে সংসার চলবে! আমাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে! তবে এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। যদিও বাবাকে বাকি জীবনে এই ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। বাবার অনেক কষ্ট হবে, তবে বাবা বেঁচে আছেন, এটাই বড় সান্ত্বনা।

গতকাল শনিবার দুপুরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দাঁড়িয়ে এভাবেই বলছিলেন মো. জাকারিয়া মোল্লা। তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ফারুক মোল্লার ছেলে।

গত ৪ জুন রাতে ওই বিস্ফোরণে আহত ফারুক মোল্লাকে ঢাকায় আনা হয়। শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। গতকাল ফারুক মোল্লা ছাড়াও আরো পাঁচজনকে ছাড়পত্র দিয়েছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। তাদের স্বজনরা বলছে, প্রিয়জন সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছে, এটাই বড় সান্ত্বনা, বড় পাওয়া।

ছাড়পত্র পাওয়া অন্যরা হলো এ কে এম মাখফারুল ইসলাম (৬৫), মো. মইনউদ্দিন (৩২), ফরমানুল ইসলাম (৩০), মাসুম মিয়া (৩২) ও ওমর ফারুক (১৬)। এদের মধ্যে ফরমানুলের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পোড়া ছিল।

ফারুক মোল্লার ছেলে জাকারিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি অনার্সে ভর্তির অপেক্ষায় আছেন। তাঁর ছোট বোন মাদরাসায় পড়ছে। বাবা কাভার্ড ভ্যান চালিয়ে তাদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতেন। সংসারও চলত বাবার টাকায়। দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গার্মেন্টের মালপত্র নিয়ে ডিপোতে অগ্নিদগ্ধ হন তাঁর বাবা। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। হাঁটতে পারছেন। তাঁকে নারায়ণগঞ্জের বাসায় নেওয়া হচ্ছে। এই খবরে দীর্ঘদিন পরে পরিবারের সবাই অনেকটাই স্বস্তিতে।

সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরা মাখফারুল ইসলামের স্ত্রী বলেন, মাখফারুল এখন অনেকটাই সুস্থ। এটা ভেবে তিনি স্বস্তি পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, তিনি (মাখফারুল) যেন বাকি জীবনে সুস্থ থাকতে পারেন। যদিও পুরোপুরি সুস্থ হতে তাঁর আরো অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ’ মাখফারুলকে তাঁর উত্তরার বাসায় নিয়ে যায় স্বজনরা।

বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে মাসুদ মিয়াকে নিতে এসেছেন তাঁর ছোট ভাই রমিজ মিয়া। রমিজ বলেন, ‘মাসুদ এখন অনেকটাই সুস্থ। হাঁটতে পারছে। তাকে নরসিংদীর বাসায় নেওয়া হয়েছে। ’ তিনি জানান, মাসুদ বিএম ডিপোতে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হন।

জানতে চাইলে ওমর ফারুকের ভাই জালাল হোসেন বলেন, ‘এত দিন পরিবারের সবাই চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। ওই আগুনে দগ্ধ অনেকেই না-ফেরার দেশে চলে গেছে। ওমর ফরুক এখন মোটামুটি ভালো। তাকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাসায় নেওয়া হচ্ছে। ’

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, ডিপোতে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এখানে ভর্তি ২১ রোগীর মধ্যে ছয়জনকে চিকিৎসার পর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে এই রোগীদের হাসপাতালে ফলোআপে থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘যে ছয়জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তারা এখন অনেকটাই ভালো। তাদের শারীরিক কিছু সমস্যা থাকলেও পর্যায়ক্রমে চিকিৎসার মাধ্যমে তারা সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করি।

Back to top button