খারাপ মানুষ থাকলেও খারাপ বাবা নেই পৃথিবীতে, বাবা দিবস

আপাতগম্ভীর খোলসের আড়ালে থাকে তাঁর অন্য রূপ। বাইরেরটা শক্ত খোলসে আটকে রাখেন, আর ভেতরটা নরম নারকেলের মতো।’ প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বাবার প্রতি ভালোবাসা থেকেই লিখেছিলেন উপরোক্ত কথাগুলো। তিনি লিখেছিলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু খারাপ বাবা একটাও নেই। বাবা মানে বটবৃক্ষ, তিনি একাই একটি প্রতিষ্ঠান। বাবা এমন একজন ব্যক্তি, যিনি যে কোনো পরিস্থিতিতে আগলে রাখেন, ছায়ার মতো পাশে থাকেন, নির্ভরতা দেন।

২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মক্তবপুর ইউনিয়নের বান্নাঘর এলাকায় চিপস কিনে নিতে বাবার সঙ্গে দোকানে গিয়েছিল পাঁচ বছরের জিসান। বাবা দোকান থেকে চিপস কেনার এক ফাঁকে জিসান চলে যায় পাশের রেললাইনে। হঠাৎ ট্রেন আসতে দেখে ছেলেকে রক্ষায় ছুটে যান বাবা মাহবুবুল হক (৫০)। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ট্রেনে কাটা পড়ে একসঙ্গে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ রকম অসংখ্য ঘটনা আছে, যার বেশিরভাগ ঘটনাই রয়ে যায় খবরের আড়ালে।
হিমালয় যেমন মেঘকে ভালোবেসে গায়ে মেখে রেখেছে অনন্তকাল, ঠিক তেমনই রোদ-বৃষ্টি, দুঃখ-সুখে সকল বাবা তাঁদের সন্তানদের আগলে রাখেন। করোনা মহামারিকালে যেখানে স্বজনরা ফেলে যাচ্ছিলেন আক্রান্তদের, সেখানে অনেক বাবাকেই দেখা গেছে করোনা আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটতে।

যুগ যুগে বাবার এমন রূপ নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা লিখেছেন; গেয়েছেন জয়ের গান। ‘কাটে না সময় যখন আর কিছুতে/বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/জানলার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা/মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না/ আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া এই গান সন্তানদের এক অসীম নস্টালজিয়ায় ডুবিয়ে দেয়। শাস্ত্রে (পিতার প্রণাম মন্ত্র) বলা হয়- ‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহি পরমং তপ/পিতোরি প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা’; অর্থাৎ ‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাই পরম তপস্যা। পিতাকে ভজন করলে সব দেবতা সন্তুষ্ট হন।

সন্তানের প্রতি পিতা বা বাবার ভালোবাসা চিরকালের। বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশের একটি অন্যতম দিন বাবা দিবস। আজ সেই দিন। প্রতিবছর জুনের তৃতীয় রোববার বিশ্বব্যাপী বাবা দিবস উদযাপন করা হয়। পশ্চিমা বিশ্বে এ ধারণা প্রচলিত হলেও বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়।

১৯০৮ সালে প্রথম বাবা দিবসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে প্রথম ৫ জুলাই দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুনের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবছর জাতীয়ভাবে বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন।

Back to top button