ইউক্রেন ইইউতে যোগ দিলে আপত্তি নেই রাশিয়ার

ন্যাটোতে যোগদান ইস্যুতে ইউক্রেনে অভিযান চালিয়েছে রাশিয়া। অভিযানের যৌক্তিকতায় তারা বলেছে, দেশ ও দেশের জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তার খাতিরেই এ অভিযান। কিন্তু কিয়েভ যদি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দিতে চায়, তাহলে মস্কোর তাতে কোনো আপত্তি নেই। খবর আনাদোলু।

গণমাধ্যমে এ প্রসঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ইউক্রেন ইইউতে যোগ দেবে কি না সেটা তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এটা একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। আমরা এর বিরুদ্ধে নই। কারণ এ সংস্থাটি ন্যাটোর মতো সামরিক কোনো গোষ্ঠী নয়।

তবে সর্তক করে বলেন, ইউক্রেন যদি শেষ পর্যন্ত ইইউতে যোগ দেয়, তাহলে দেশটি এক সময় পশ্চিমা দেশগুলোর একটি উপনিবেশে পরিণত হবে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনের ন্যাটোয় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই ‘আপত্তি’ করে আসছে মস্কো। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন পাওয়ায় রাশিয়ার আপত্তিতে ভ্রুক্ষেপ করেনি কিয়েভ। এক পর্যায়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান চালায় রুশ বাহিনী। অভিযানে ক্ষতির মুখে এক সময় ইউক্রেন জানায়, তারা আর ন্যাটোতে যোগদানে আগ্রহী নয়।

সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এক সাথে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে সফর করে ইইউতে যোগদানের ব্যাপারে ইউক্রেনকে উৎসাহিত করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী শাখা ইউরোপীয় কমিশন ইউক্রেনের সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবুজ সংকেত দেয়। কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেন বলেন, ‘ইউক্রেনকে সদস্য দেশ হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো উচিত।

এদিকে ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে রাশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। তাদের ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় রাশিয়া। তবে এক্ষেত্রে রাশিয়ার তুলনায় তুরস্কের প্রতিবাদের মুখে পড়ে তাদের ন্যাটোতে যোগদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। দেশ দুটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে কঠোর অবস্থান নেয় ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য। আপাতত রাশিয়ার চেয়ে তুরস্ককে রাজি করানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে ন্যাটোর অংশীদাররা।

Back to top button