সংসদ ভোটে ইভিএম চায় না জাপাসহ অন্যান্য দল

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহারের বিপক্ষে মতামত দিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় পার্টি-জেপিসহ কয়েকটি দল। গতকাল রবিবার (১৯ জুন) ইভিএম যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আয়োজিত বৈঠকে অংশ নিয়ে দলগুলো তাদের এমন অবস্থানের কথা জানায়।

বৈঠক শেষে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যেভাবে নির্বাচন ব্যবস্থা আছে, সেটার পক্ষেই তারা। ইভিএম ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। বৈঠকে ইসির কাছেও এ মতামত আমরা তুলে ধরেছি। জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, আপাতত জাতীয় নির্বাচন ইভিএমে ব্যবহারের পক্ষে নন তারা। তবে স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে আস্থা অর্জনের পর এটি পরবর্তীতে বৃহৎ পরিসরে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইভিএম যাচাই-বাছাইয়ে গতকালের বৈঠকে ১৩টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনটি দল বৈঠকে আসেনি। যেসব দল এসেছিল তাদের বেশির ভাগই ইভিএমে সংসদে নির্বাচনে ভোট না করার পরামর্শ দেন। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ইভিএম নিয়ে আমরা কোনো মতামত কারো উপর চাপিয়ে দিতে পারি না, চাপিয়ে দেব না, সেই ধরনের কোনো ইচ্ছাও আমাদের নেই।

ইভিএম যাচাই করার জন্য ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করার জন্য ডেকেছে ইসি। এরই অংশ হিসেবে রবিবার ১৩টি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। দলগুলো হলো- জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় পার্টি-জেপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম ও বাংলাদেশ কংগ্রেস। এগুলোর মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ড. কামাল হোসের গণফোরাম ও কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বৈঠকে আসেনি। প্রতিটি দলের চার জন করে প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্হিত ছিলেন।

ইভিএম নিয়ে মানুষের প্রস্তুতি নেই উল্লেখ করে সভায় জাপা মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচনে পরীক্ষামূলক হতে পারে। কিন্তু সারা দেশে ৩০০ আসনে ইভিএমে হলে এটা বিপর্যয় হয়ে যাবে। ইভিএমে ভোট দেওয়ার মতো মানুষের প্রস্তুতি নেই। এটা জাতীয় পার্টি মনে করে। সিইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, নির্বাচন করব আমি, আমরা। আপনার দায়িত্ব কতটুকু নির্বাচন সুষ্ঠু করা যায়, ভালো নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেন, তারা বেশির ভাগ যা বলে তা জনগণের প্রতিফলন হতে পারে।

জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাদেক সিদ্দিকী, এজাজ আহমেদ মুক্তা ও সাবেক এমপি রুহুল আমীন বৈঠকে অংশ নেন। শেখ শহীদ বলেন, সংসদ নির্বাচনে পুরোপুরি ইভিএম ব্যবহারের সক্ষমতা নেই ইসির। ফলে কোথাও ইভিএম এবং কোথাও ব্যালট-এটার দরকার নেই। এতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি হবে। এজন্য স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ইভিএমে আস্থা অর্জনের পর এটি জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মতামত চাপিয়ে দেওয়া হবে না : বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ইভিএম নিয়ে আমরা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আপনারা জানেন কিছুদিন আগেও আমরা ইভিএম এর মাধ্যমে নির্বাচন করেছি। তারপরও রাজনৈতিক মহলে এবং পত্রপত্রিকার মাধ্যমে যেটা আমরা জানতে পেরেছি যে, ইভিএম নিয়ে ঐক্যমত নেই। এমন পরিস্থিতিতেই সবার মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ইভিএমটা যেহেতু আমরা ব্যবহার করছি। আমাদের উদ্দেশ্য ইভিএম সম্পর্কে আপনাদেরকে ধারণা দেওয়া। আমরা কোনো মতামত কারো উপর দেব না।

Back to top button