চূড়ান্ত বাজেটে তামাক পণ্যে দাম বাড়ানোর দাবি

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্যে সিগারেটসহ সবধরনের তামাকপণ্যের ব্যবহার বাড়বে। এতে স্বাস্থ্য ব্যয় বেড়ে যাবে এবং অতিরিক্ত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে সরকার। সম্পুরক শুল্কহার অপরিবর্তিত রাখা এবং সুনির্দিষ্ট করপদ্ধতি চালু না করায় তামাক কোম্পনিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

তামাকপণ্যে বাজেটের প্রভাব নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে অর্থনীতিবিদ এবং তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। গত শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্‌স (সিটিএফকে), প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্না।

সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বহুল ব্যবহৃত সস্তা সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে শলাকপ্রতি মাত্র ১০ পয়সা এবং গুল, জর্দা ও বিড়ির দাম ১ পয়সাও বাড়ানো হয়নি। এভাবে তামাকের ব্যবহার কমবে না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর সুনির্দিষ্ট সম্পুরক শুল্ক আরোপ করে তামকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ২.৫৬ শতাংশ। বর্তমানে সিগারেট বাজারের ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের দখলে যার প্রধান ভোক্তা মূলত তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী। মধ্যম, উচ্চ এবং অতি উচ্চ স্তরের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ৩.১৭ শতাংশ, ৮.৮২ শতাংশ এবং ৫.১৮ শতাংশ। মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। সিগারেটের দাম মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় খুবই কম হওয়ায় সিগারেট আরো সহজলভ্য হবে এবং তরুণরা সিগারেট ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে। নিম্নস্তরের সিগারেটে সম্পুরক শুল্ক ৫৭ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখে কেবল খুচরামূল্য ১ টাকা বাড়ানোর কারণে বর্ধিত মূল্যের একটা অংশ কোম্পানির পকেটে চলে যাবে। সম্পুরক শুল্ক সুনির্দিষ্ট আকারে আরোপ না করায় কর আহরণে জটিলতা বাড়বে।

Back to top button