প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠছে ৪ লাখ জেলে

প্রতিবাদ মূখর হয়ে উঠছে উপকূলীয়সহ সারা দেশের ৪ লাখ জেলে। তাদের অভিযোগ, সরকার ঘোষিত কোনো প্রকল্পই জেলেদের কাজে লাগছে না।

তারা বলেছেন, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় মৎস্যজীবী, মৎস্য চাষি ও জেলেদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার (২২ জুন) থেকে মাসব্যাপী ৪৭ জেলা ও ২১৬ উপজেলা কমিটি আলোচনা সভা করবেন জেলেরা। এসব দাবি আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির পক্ষ থেকে দেশের প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হবে।

তার পরেও যদি কোনো দাবি বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে আগামী ১৯ আগস্ট জাতীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি করবেন তারা। সম্প্রতি রাজধানীতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি আয়োজিত সমিতির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী ও কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় আন্দোলনের কর্মসূচি ডাক দেওয়ার কথা জানান জেলে নেতারা।

‘প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অঙ্গীকার, বাস্তবায়ন কর জেলেদের অধিকার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ক্ষুত্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কার্যনির্বাহী সভায় ৪৭টি জেলা-২১৬জন উপজেলা সমিতির নেতারা এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যে একমত প্রকাশ করেছেন।

মৎস্য নেতারা জানান, বাংলাদেশ ক্ষুত্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যসম্পদ ও মৎস্যজীবী জেলেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা সভায় জাটকা, মা ইলিশ রক্ষায় কাজ করে আসছে এসকল ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা।

কিন্তু গত ২ জুন বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেট ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম (বিআরসি) ভবনের এক সভায় আলোচনায় বক্তরা বলেছেন মৎস্যজীবীদের সংগঠনগুলোহ জাটকা ও ইলিশ রক্ষায় কোনো কাজ করে না। তাদের এ রকম বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলে নেতারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন সিকদার জানান, সরকার মৎস্য বিভাগে যতগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছে প্রত্যেকটি প্রকল্পের সুফল নিচ্ছেন রাজনৈতিকভাবে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারা। প্রকৃত মৎস্য জীবীরা সুফল পাচ্ছে না। এই বণ্টনের পরিবর্তন না আসলে সরকারের দেওয়া প্রকল্পের সুফল আসবে না।

তিনি আরো বলেন, আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের অনিয়ম বন্ধে উপজেলা পরিষদ ও কেন্দ্রীয়ভাবে স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন করার পরেও কোনো প্রতিকার হয়নি। বরং সাধারণ জেলে সম্প্রদায় দিন দিন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আগামী এই আন্দোলন করার প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সারা দেশে সরকার নিষিদ্ধ জালের অজুহাতে জেলেদের কথায় কথায় নির্যাতন করা হচ্ছে। জেল জরিমানা সাজা দেওয়ায় মতো জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সরকারের দেওয়া চাল, বিকল্প কর্মসংস্থানের অর্থ জেলেরা পেল কি না সেদিকের কোনো খেয়াল না করে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সরকারি সহায়তা যেটুকু মৎস্যজীবী জেলেদের নামে বরাদ্দ হয়, সব নিয়ে যায় প্রভাবশালীরা।

এছাড়া সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরা বন্ধ থাকার ঘোষণা দেয়। সে কারণে ৪ লাখ মৎস্যজীবী সম্পূর্ণ বেকার হয়ে যায়। মৎস্যজীবী জেলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় বলে তিনি জানান।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Back to top button