পদ্মাসেতু শুধু বাংলাদেশের নয়, দুই দেশের বাঙালির গর্বের প্রতীক’

পদ্মাসেতু শুধু বাংলাদেশের নয়, দুই দেশের বাঙালির গর্বের প্রতীক। ভারত এমনটাই মনে করে বলে জানিয়েছেন দেশটির হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। অন্যদিকে, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি মনে করেন, কেবল বাংলাদেশ নয়, গোটা উপমহাদেশেরই পট পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে পদ্মাসেতু। নাওকি জানান, ভবিষ্যতে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণে অর্থায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পারে তার দেশ।

একদিকে দেশের সবচেয়ে বড় মেগা স্ট্রাকচার, অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের আজগুবি অভিযোগে অর্থায়ন বন্ধ। আর তা ছাপিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত বড় এক চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশের জন্য। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে স্বপ্নের সেতু নির্মাণ নিয়ে সরকারের উপর আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা ছিল না; পুরো কর্মযজ্ঞ নিয়ে নজর ছিল অনেক বেশি। কারণ, পদ্মাসেতু শুধু দেশের মানুষের যোগাযোগ নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেশী ভারত মনে করে, পদ্মাসেতু দু’দেশের মানুষকে যেমন কাছে আনবে, তেমনি বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য। সাংবাদিকদের সাথে খোলামেলা আলাপকালে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের সহযোগী হিসেবে সবসময়ই কাছে থাকতে চায় ভারত। বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানির পরিমাণ আগেই ১শ’ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল; এখন তা ২শ’ কোটি ডলার হতে যাচ্ছে। পদ্মাসেতু নির্মাণ হলে এই পরিমাণ আরও বাড়বে, এটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

দোরাইস্বামী জানান, পদ্মাসেতুর অর্থায়নে সহযোগী থাকতে চেয়েছিল ভারত। তবু নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় তার দেশ। ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ তখন একটি কঠিন এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। ভারত তার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সদিচ্ছা আর দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে বলে মনে করে জাপান। দেশটির রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেছেন, এই সেতু হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাইলফলক। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার চাইলে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণে অর্থায়ন নিয়ে ভাববে জাপান।

ইতো নাওকি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এ সেতু শুধু এদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন করবে না, প্রবৃদ্ধিও বাড়াবে। একই সাথে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে এই উপমহাদেশে গেম চেঞ্জার হবে পদ্মাসেতু। দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণে বাংলাদেশ সরকার জাপানের অর্থায়ন চাইলে সেটি বিবেচনা করা যেতে পারে।

পদ্মাসেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংকের অন্যায়ভাবে সরে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় প্রকল্প থেকে জাইকার টেন্ডার তুলে নেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের খোলামেলা জবাব দেন রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। তিনি বলেন, প্রকল্পের শুরুর দিকে সম্ভাব্যতা যাচাই করেও পরে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ায় জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। তবে জাপান ও এর জনগণ সব সময়ই এ সেতুর সাফল্য কামনা করেছে। তাই এ দেশের নানা উন্নয়ন প্রকল্পের অংশীদার হয়ে সব সময় পাশে থেকেছে জাপান।

পদ্মাসেতু নির্মাণ হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে জাপান।

Back to top button