কাতারের মঞ্চে অভিজ্ঞতাও লাতিনের পুঁজি

বিশ্বকাপ এলে দুটি বিভাজন আপনা আপনিই পরিলক্ষিত হয়। এক. লাতিন, দুই. ইউরোপ। ফুটবলে এ যেন দুই পল্লি। ইউরোপের দেশগুলো লাতিনকে দেখে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিতে। তাদের কারও কারও কাছে লাতিন হীন-নীচু!

ক’দিন আগেও এ নিয়ে বিতর্কের জল অনেক দূর গড়ায়। ফ্রান্সের উদীয়মান তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের এক কথা নিয়ে বহু আলোচনা চলে। তবে বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। যেখানে ট্রফি যেমন লাতিনের মানুষ ভালোই ছুঁয়েছে। আবার এই অঞ্চলের দেশগুলোও বিশ্বকাপে বেশি অংশ নিয়েছে।

যেখানে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তারাই আবার সবচেয়ে বেশি ২১ বার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। এবারসহ সেটা হবে ২২ বার। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ বার বিশ্বকাপ খেলেছে জার্মানি। ১৮ বার ইতালি। যদিও এবার তারা কাতারের মঞ্চে নেই। চারে থাকা আর্জেন্টিনা এবারের আগে ১৭ বার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। লাতিনের মধ্যে দেখলে ব্রাজিলের পরই আছে আর্জেন্টিনা। যারা কিনা এই অঞ্চল থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চবার বিশ্বকাপে অংশ নেয়।

এই বেশিবার খেলার অভিজ্ঞতাও লাতিন অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য পুঁজি। এবার কাতারের মহামঞ্চে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আর পাঁচবারের শিরোপাধারী ব্রাজিলই লাতিনের বড় আশার নাম। দুই দলকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশও স্বপ্ন দেখছে। বিশেষ করে যারা বিশ্বকাপে নেই, এমন দেশগুলোর ফুটবলপ্রেমীদের কেউ ব্রাজিল, কেউ আবার আর্জেন্টিনার সমর্থক।

২১ নভেম্বর থেকে কাতার বিশ্বকাপ শুরু। ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে সুইজারল্যান্ড, সার্বিয়া ও ক্যামেরুনকে। এই তিন দলকে টপকাতে হয়তো খুব একটা পরীক্ষা দিতে হবে না নেইমারদের। গত দুটি বিশ্বকাপে অনেকটা পথ গিয়েও শেষ পর্যন্ত সোনালি ট্রফিটা ছোঁয়া হয়নি তাঁদের।

এবার কাতারের মহামঞ্চ জয় করার প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামতে চান তিতের শিষ্যরা। ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। তার আগের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে হয়েছিল চতুর্থ। পরপর দুই আসরের ভুল-ত্রুটি শুধরে এবার নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার পালা। আর্জেন্টিনাও ২০১৪ বিশ্বকাপের ক্ষতে প্রলেপ দিতে চায় ট্রফি জিতে।

Back to top button