আফগানিস্তানে নেই খাবার, নেই আশ্রয়

একদিকে ভয়াবহ ভূমিকম্পে অসহনীয় ক্ষতি আরেক দিকে বন্যার হানা। আফগানিস্তান যেনো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষদের খাবার নেই, আশ্রয় নেই। তার উপর বন্যার হানা। এখন দেশটিতে ভয়াবহ আকারে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে দেশটির এ ভয়াবহ পরিস্থিতি উঠে এসেছে।

আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগা জানের আদি পুরুষ এই প্রদেশেই বসবাস করে আসছেন। আগা জান বলেছেন, গত বুধবার (২২ জুন) ভোরে যখন কম্পন শুরু হয় তখন তিনি দৌড়ে ঘরে পরিবারের কাছে যান। কিন্তু ততক্ষণে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এমনকি তার ঘরে থাকা বেলচাটাও ধ্বংস হয়ে গেছে। তার তিন সন্তান ও দুই স্ত্রী কেউই বেঁচে নেই। তার মধ্যে বন্যার হানা। দেশটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

আগা জান যেখানে বসবাস করেন সেটি পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলার একটি গ্রাম। সেখানেই সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং আরো তিন হাজারের বেশি আহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রদেশের সবচেয়ে কাছের বড় শহর থেকে তিন ঘণ্টার গাড়ির দূরত্বে অবস্থিত গ্রামটিতে যাতায়াতের সড়কের অবস্থাও নাজুক। সেখান থেকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। তালেবানের সামরিক হেলিকপ্টারে করে কাউকে কাউকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলে মনে হচ্ছে। সাধারণত কাদা এবং পাথর দিয়ে তৈরি এসব বাড়িগুলোতে থাকা প্রায় প্রতিটি পরিবারই অন্তত একজন স্বজন হারানোর শোকে কাতর। আগা জান এবং তার বেঁচে যাওয়া এক ছেলে ছেলে খালি মাটিতে কাঠের লাঠির মধ্যে টারপলিনের একটি বড় শিট টানিয়ে নিয়েছেন। অন্য পরিবারগুলো তাঁবুতে রয়েছেন, ঘরের অবশিষ্টাংশ দিয়ে কঠোর পরিশ্রমে এগুলো বানিয়ে নিয়েছেন তারা।

দেশটির দুর্যোগকবলিত এলাকার সব স্থানীয়দের আগা জানের মতো একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন। আফগান সরকার এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা এবং ত্রাণ বিতরণ করছে। কিন্তু এমন এক সংকট আর এমন সময়ে এসেছে যখন দেশটি ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিতে রয়েছে। হতাহতদের সহায়তায় হাত বাড়িয়েছে জাতিসংঘও। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ভূমিকম্প কবলিত এলাকায় কলেরার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, যে পরিমাণ সহযোগিতা ও সহমর্মিতা পাওয়া দরকার আফগানিস্তান তা পাচ্ছে না। সরকার পরিচালনার দায়িত্বে তালেবানরা থাকার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সবাই। আবার অনেকে বলছেন, এটা পশ্চিমাদের নিষ্ঠুর আচরণ। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সবমিলিয়ে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ কঠিন পরিস্থিতি পার করছে আফগানরা। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো তাদেরকে সহযোগিতায় না এগিয়ে আসলে সামনে আরো বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে দেশটির জন্য।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Back to top button