কুরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মাঠ প্রশাসনে নির্দেশনা

মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো পশু কুরবানি করা। এদিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ী পশু কুরবানি দিয়ে থাকেন। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতার অভাবে পশুর রক্ত ও উচ্ছিষ্টাংশ থেকে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের সম্ভাবনা রয়ে যায়। আর বর্জ্য থেকে বিভিন্ন রোগবালাই ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।

কুরবানির পশুর বর্জ্যের সুষ্ঠু, পরিবেশসম্মত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের জন্য মাঠ প্রশাসনে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমাবর (২৭ জুন) মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সকল বিভাগীয় কমিশনার, সকল জেলা প্রশাসক এবং সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদের চিঠিতে বলা হয়, আগামি ১০ জুলাই যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। মাঠ প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারনের মাঝে সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যেগ নেওয়া হলে কুরবানির পশুর বর্জ্য দ্বারা পরিবেশ দুষণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণের উদ্যেগ গ্রহণ করেছে। কুরবানির পশুর বর্জ্যরে সুষ্ঠু, পরিবেশ সম্মত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমটি সফলভাবে পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্ধুদ্ধ করার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লিখিত বিষয়ে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ, পশু জবাইয়ের স্থান পরিষ্কার করার জন্য সব সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদুল আযহা উপলক্ষে সারা দেশে পশুর হাট বসবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক-মহাসড়কের পাশে যেখানে যান চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে, সেখানে কোনোভাবেই পশুর হাট বসানো যাবে না। এ নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ কর হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। সিটি করপোরেশনের মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা সবাই তাদের স্ব স্ব অবস্থানে থেকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ পূর্বক কোরবানির হাট বসানোর পাশাপাশি এ বছরও অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পশুরহাট ব্যবস্থাপনা, দ্রুততম সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জনসাধারণকে পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান মন্ত্রী।

সোনালীনিউজ/এসআই/আইএ

Back to top button