যেসব কারণে হতে পারে অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সার

দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ‘প্যানক্রিয়াস’ বা অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সার হলে বাঁচার সম্ভাবনা কমই থাকে।পাকস্থলীর পেছন দিকে পেটের উপরিভাগে লম্বা সমতল অঙ্গ-গ্রন্থি অগ্ন্যাশয় হজমের ‘এনজাইম’ তৈরির পাশাপাশি দেহর শর্করা প্রক্রিয়াজাত করার কাজও নিয়ন্ত্রণ করে।আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি’য়ের দাবি, ২০২২ সালে অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সার শনাক্ত হবে প্রায় ৬২,২১০ জন মানুষের।

গ্লাসগো’তে অবস্থিত বিটসন ইন্সটিটিউট’য়ের ক্যান্সার গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক জেফ ইভানস বলেন, “অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সার হওয়া রোগীর বেঁচে ফিরে আসার মাত্রা খুবই কম, আর এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসা খুবই জরুরি।”ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ শনাক্ত করার আরও উন্নত উপায় প্রয়োজন যাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সমাধান পাওয়া যায়। আবার এই রোগ নির্ণয়ের জন্য উন্নতি পদ্ধতিও প্রয়োজন।”

জিনগত ঝুঁকি

‘জেএএমএ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় ছয়টি নির্দিষ্ট জিনের ‘মিউটেশন’ পাওয়া যায় যা সরাসরি অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের সঙ্গে জড়িত। পরিবারে কারও এই রোগ না থাকলেও একজন মানুষের জিনে ওই ‘মিউটেশন’ দেখা দেওয়া সম্ভব।

মায়ো ক্লিনিকের অধ্যাপক ও চিকিৎসক ফার্গাস কাউচ ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “এখন পর্যন্ত অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সার নিয়ে জিনগত গবেষণা বিষয়ে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এই গবেষণা। প্রতিটি জিনের সঙ্গে কতটুকু অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি জড়িয়ে আছে তা জানা গেছে। শুধু বংশে কারও এই রোগ থাকলে অন্যদের ‘মিউটেশন’ দেখা দেবে এই ধারণায় আটকে থাকা যাবে না।”

মায়ো ক্লিনিকের আরেক বিশেষজ্ঞ ড. গ্লোরিয়া পিটারসেন বলেন, “একাধিক জিন এই ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। আর শুধু যাদের পরিবারে এই রোগের ইতিহাস আছে তাদেরই জিন পরীক্ষা করা হলে অনেক কম সংখ্যক রোগী উপকার পাবে।”

মদ্যপান: জন হপকিন্স মেডিসিন’য়ের মতে, “অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে দেখা দেয় দূরারোগ্য ‘প্যানক্রিয়াটাইটিস’। এই রোগ অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নারীদের মদ্যপান থেকে এই রোগ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে এটাও ঠিক যে দীর্ঘসময় ধরে বাড়াবাড়ি মাত্রায় মদ্যপানের অভ্যাস থেকেই এই দুটি রোগ সৃষ্টি হতে দেখা যায়।”

স্থূলতা: অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সারের সঙ্গে স্থূলতার সম্পর্ক শক্তিশালী।মায়ো ক্লিনিকের ড. রাকেশ কে. জেইন বলেন, “স্তন ক্যান্সার আর অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত সিংহভাগ রোগীই স্থূলকায়। অতিরিক্ত ওজনধারী হওয়ার কারণেই মূলত তাদের শরীর চিকিৎসার প্রতি সাড়ায় দেয় কম এবং রোগ নির্ণয়েও বাধা সৃষ্টি করে। তাই কোনো ‘থেরাপিউটিক’ উপায় বের করা সম্ভব হলে রোগীর সুস্থ হওয়া সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে।”

ডায়াবেটিস: ‘জার্নাল অফ প্যানক্রিয়াস’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সারের একটি বড় হুমকি হল টাইপ টু ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস এই রোগ সৃষ্টি করা ও রোগের তীব্রতা বাড়ানোর জন্যই দায়ী।

৮০ শতাংশ অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের রোগীর মাঝে ডায়াবেটিস পাওয়া যায়, সবারই রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত।

নতুন করে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সারের পরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে কি-না তা বোঝা যাবে ‘মলিকিউলার বায়োমার্কার’য়ের সহযোগিতায়।

ধূমপান: আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি’য়ের মতে, ধূপমান শুধু যে ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে এমনটা ভাবলে ভুল হবে। অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সার হওয়ারও একটা বড় ঝুঁকি ধূপমান। ধূমপায়িদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় দ্বিগুন।

প্রায় ২৫ শতাংশ অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের কারণ ধরা যায় ধূমপানকে। তামাকজাত অন্যান্য অনুসঙ্গও অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

Back to top button