প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা আমানতে সুদহারের সীমা প্রত্যাহার

প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রার আমানতের সুদহারের সীমা প্রত্যাহার করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রার আমানত (এনএফসিডি) হিসেবে নিজেদের মতো করে সুদ দিতে পারবে। এতদিন ‘ইউরো কারেন্সি ডিপোজিট রেটের’ বেশি সুদ দেওয়া যেত না।

রোববার বাংলাদেশ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ নির্দেশনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির নামে এনএফসিডি হিসেব খুলতে পারে। এই হিসাবে ইউরোকারেন্সি আমানত হিসেবের বেশি সুদ দিতে পারে না। এখন থেকে এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নিজেরাই সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে। এই শিথিলতা প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও বিদেশি নাগরিক, বিদেশে নিবন্ধিত কোম্পানি, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বিশেষায়িত অঞ্চল তথা ইপিজেড, ইজেড বা হাইটেক পার্কে অবস্থিত শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়া এবং প্রবাসী আয় কমার ফলে চাপে রয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার। গত আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়ানো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত ১২ জুলাই ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে। আবার এক বছরে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর ৯ টাকা ১৫ পয়সা বেড়ে ৯৩ টাকা ৯৫ পয়সায় উঠেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় কমাতে গাড়ি, টিভি, ফ্রিজ, স্বর্ণসহ ২৭ ধরনের পণ্যে শতভাগ এলসি মার্জিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও বেশ কিছু পণ্যে মার্জিনের হার ঠিক করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ।

এ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি, সরকারি প্রকল্প কাটছাঁটসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে ইআরকিউ হিসাবে জমা রাখার সুযোগ কমানো, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ধারনের ক্ষমতা কমানো এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে ডলারে দেওয়া ঋণ স্থানীয় মুদ্রায় স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

Back to top button