লোডশেডিংয়ে চার্জার ফ্যান

গরমের প্রকোপ এবার প্রচণ্ড। সঙ্গে আছে ‘লোডশেডিং’। তাই অসংখ্য মানুষ বাড়ির পুরানো সিলিং ফ্যান বদলাচ্ছেন কিংবা চার্জার ফ্যান কিনছেন।ফ্যান দেশের সকল জায়গাতেই পাওয়া যায়। তবে এক জায়গায় সব ধরনের নিত্যনতুন ফ্যান কম দামে কিনতে চাইলে যেতে হবে ঢাকার নবাবপুরে কিংবা নিউ মার্কেটে।ফ্যানের জন্য দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার হল নবাবপুরে।নবাবপুর রোডের তালুকদার ইলেক্ট্রিক মার্কেটের ফ্যানসহ আরও অনেক বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দোকান ফারিশতা এন্টারপ্রাইজ। এর কর্ণধার দেওয়ান তৌহিদ আলম জানিয়েছে সব রকম ফ্যানের বিস্তারিত।সিলিং ফ্যানের ধরন ও দরদামসাধারণত তিনটি আকারের সিলিং ফ্যান বাসাবাড়িতে ব্যবহার হয়। ৩৬ ইঞ্চি, ৪৮ ইঞ্চি ও ৫৬ ইঞ্চি।

৪৮ আর ৫৬ ইঞ্চির ফ্যানের মধ্যে দামের তফাৎ হয় খুবই সামান্য ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। তবে ৩৬ ইঞ্চি ফ্যানের দাম ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কম-বেশি হতে পারে।ফ্যানের পাখা হয় তিন ধরনের, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম আর ফাইবার।লোহার পাখা ভারি, মরিচা পড়ে। অ্যালুমিনিয়ামের পাখায় সেই সমস্যা নেই, তবে পাখা গরম হলে বাতাস গরম হয়ে যায়।আর ফাইবারের পাখায় কোনো সমস্যাই নেই। তবে দাম সবার নাগালে থাকে না। বাজারে তিন পাখা থেকে আট পাখার সিলিং ফ্যান পাওয়া যায়।কম দামি ফ্যানগুলোর ভেতরের কয়েল একসময় অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি হত। তবে এখন আর তা দেখা যায় না। অ্যালুমিনিয়াম আর কপারের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি হয় কমদামি ফ্যানের কয়েল।আর বেশিরভাগ ফ্যানেরই কপার কয়েল থাকে। তবে সেই কপারের মানভেদে ফ্যানের দাম কমবেশি হয়।দেশীয় ব্র্যান্ড আছে অসংখ্য। এর মধ্যে ওয়ালটন, ক্লিক,

ভিশন, বিআরবি, যমুনা, সিটি, ন্যাশনাল, এনার্জিপ্যাক, সুপারস্টার, গাজি ইত্যাদি জনপ্রিয়।১ হাজার ২শ’ টাকাতেই একটা সিলিং ফ্যান পাওয়া যায়। তবে এর স্থায়িত্ব নিয়ে কিছুই বলা যায় না।দেশীয় ব্র্যান্ডের মোটামুটি মানের এবং কয়েক বছরের ওয়ারেন্টিসহ ফ্যান নিতে হলে গুনতে হবে ১ হাজার ৭শ’ থেকে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা।দেশের বাইরে দুটি দেশ থেকে বাংলাদেশে বড় পরিসরে ফ্যান আসে। ভারত ও পাকিস্তান। হ্যাভেলস, উষা, ওরিয়েন্ট, লুমিনাস এই চারটি হল ভারতীয় ফ্যানের পরিচিত ব্র্যান্ড। অভিজাত ডিজাইনের ফ্যানই বেশি এদের, মানও ভালো। দাম পড়বে পাঁচ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা।পাকিস্তানি ফ্যানে পরিচিতি বহুদিন ধরেই রয়েছে। পাক ফ্যান, পাক পাঞ্জাব, পাক পারওয়াজ, জিএফসি ইত্যাদি

ব্র্যান্ডের নাম সবারই জানা। ভারতের চাইতে দাম তুলনামূলক কম, রাজকীয় ডিজাইনের হয় এই ফ্যানগুলো। ৪ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকায় পাওয়া যায়।এর বাইরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে তৈরি অনেক ফ্যান পাওয়া যায় দেশের বাজারে। প্রধানত পাকিস্তান থেকে ফ্যানের যন্ত্রাংশ এনে দেশে তা জোড়া দিয়ে বাজারজাত করা হয়।চার্জার ফ্যানচার্জার ফ্যানের মধ্যে পরিচিতি রয়েছে নোভা, কেনেডি, ডিভেন্ডার, মিয়াকো, সানমুন, ব্রাইটস্টার ইত্যাদি।সব চার্জার ফ্যানই সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগেও চালানো যায়। কিছু ফ্যানে আবার থাকে ‘এয়ার কুলার’য়ের মতো সুবিধা। অর্থাৎ তাতে বরফ কিংবা ঠাণ্ডা পানি দেওয়া ব্যবস্থা থাকে। যা থেকে বাষ্প আকারে ঠাণ্ডা বাতাস পাওয়া যায়।আকারভেদে ৭শ’ থেকে ৮ হাজার টাকা দাম পড়ে এসব ফ্যানের। দুই বছর থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি কিংবা গ্যারান্টি মেলে।কেনার সময় যা খেয়াল রাখতে হবেঘরের আকারঘরের আয়তন বলে দেবে কোন সাইজের ফ্যান কিনতে হবে। ঘরের আয়তনের তুলনায়

ফ্যান যদি বড় হয়ে যায় তবে বাতাস কমে যাবে।৮ ফিট বাই ১০ ফিটের ছোট ঘরে সর্বোচ্চ ৩৬ ইঞ্চির ফ্যান বসানো যাবে। ১০ ফিট বাই ১২ ফিটের ঘরের জন্য ফ্যান নেওয়া যাবে সর্বোচ্চ ৪৮ ইঞ্চির।আর এর চাইতে বড় ঘরের জন্য লাগবে ৫৬ ইঞ্চির ফ্যান। অনেক বড় ঘর হলে দুটি ফ্যান বসানো কথা চিন্তা করা যেতে পারে।আর পি এমআরপিএম হল ‘রিভোলিউশন পার মিনিট’ অর্থাৎ প্রতি মিনিটে তা কতবার ঘুরতে পারে। ফ্যানের আরপিএম যত বেশি, স্বভাবতই বাতাসও ততই বেশি। দেশের বাজারে ৩শ’ থেকে ৩৮০ আরপিএম’য়ের ফ্যান সবচাইতে বেশি দেখা যায়।তবে ৪৫০ আরপিএম’য়ের ফ্যানও পাওয়া যায় বাজারে।ওয়াট৫৬ ইঞ্চি একটা ফ্যানের মোটর ঘুরাতে ৮০ ওয়াট’য়ের মোটর হল আদর্শ। তবে ৪৮ ইঞ্চির ফ্যানের ওয়াটও যদি তাই হয়, কম ওয়াট’য়ে তা চলতে না পারে। তবে প্রয়োজনের বেশি ক্ষমতার মোটর চালানোর কারণে বিদ্যুত

খরচ বেশি হবে।এয়ার ডেলিভারিসাধারণত সিলিং ফ্যানের এয়ার ডেলিভারি বা বাতাস দেওয়ার ক্ষমতা হয় ২৬০ থেকে ২৮০ মিটার কিউব। দামি ফ্যানগুলোতে এর বেশিও হতে পারে। এয়ার ডেলিভারি যেটার বেশি সেটাই কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।ইনসুলেশন ক্লাসফ্যানের মোটর কতটুকু তাপমাত্রা সহ্য করে ঘুরতে পারে সেটা বোঝা যাবে এই ‘ইনসুলেশন ক্লাস’ থেকে। ইংরেজি এইচ, বি, ই ইত্যাদি অক্ষর দিয়ে তা প্রকাশ করা হয়।ভালো ফ্যানের ‘ইনসুলেশন ক্লাস’ হতে হবে ‘ই’। এই ইনসুলেশন ক্লাস’য়ের ফ্যানগুলো ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। ফলে একটানা অনেকক্ষণ ফ্যানগুলো নিরাপদে চলতে পারবে।চার্জার ফ্যান ব্যবহারে সাবধানতাউপরের বিষয়গুলোর পাশাপাশি চার্জার ফ্যানের ক্ষেত্রে দেখতে হবে ব্যাটারির মান, সঠিকভাবে তা ব্যবহার করা জানতে হবে।
নতুন ফ্যান কেনার সময় ব্যাটারির ওজন পরীক্ষা করে দেখতে পারলে ভালো। ব্যাটারি ভারি হলে তার মানও ভালো হওয়ার

সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ ভেতরের সীসা, সেল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশগুলো মোটা হলে ব্যাটারি ভারি হয়।আর যন্ত্রাংশের মান ভালো হলে ব্যাটারিও দীর্ঘস্থায়ী হবে।চার্জার ফ্যানগুলো ‘এসি, ডিসি’ দুটোইতে চলে, মানে সরাসরি বিদ্যুতেও চালানো যায় আবার ব্যাটারিতেও চলে। কিন্তু সমস্যা হল সরাসরি লাইনের বিদ্যুতে চলার ক্ষেত্রে ব্যাটারিতে বেশি চার্জ দেওয়া হয়ে যায়।কারণ অনেক চার্জার ফ্যানেই ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ হয়ে গেলে চার্জ নেওয়া বন্ধ করার সুবিধা থাকে না। তাই বিদ্যুৎ থাকলেও ব্যাটারিতেই ফ্যান চালানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।ব্যাটারির চার্জ পুরোপুরি শেষ করে দেওয়াও ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। অনেকসময় পুরোপুরি চার্জ শেষ হওয়া ব্যাটারি আবার চার্জ নিতে পারে না।অপরদিকে শীতকালে বা প্রয়োজন

যখন থাকে না তখন চার্জার ফ্যানগুলো প্যাকেট করে রেখে দেওয়া হয় দীর্ঘদিন। এটাও ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর।তাই ফ্যানের প্রয়োজন না থাকলেও প্রতি ১০ দিন পর পর ফ্যানগুলো কিছুক্ষণ ব্যাটারিতে চালিয়ে আবার চার্জ দিয়ে রাখতে হবে। এতে ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়বে।চার্জার ফ্যানের ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয়ে গেলে নতুন ট্রান্সফর্মার লাগাতে হয়। টাকা বাঁচাতে কিংবা আরও ভালো বাতাস পেতে কম কিংবা বেশি অ্যাম্পিয়ারের ট্রান্সফর্মার কেনেন অনেকে। এটা করা যাবে না। যেমনটা ছিল ঠিক তেমনটাই নিতে হবে।

Back to top button