মসজিদে রূপান্তরের পর আয়া সোফিয়ায় পর্যটকের ঢল

ইস্তাম্বুলের খ্যাতনামা ও আইকনিক স্থাপনা আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করার পর দেশটিতে প্রচুর পর্যটক বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিষয়টি বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। খবর আনাদোলু।

১৯৩৪ সালের মন্ত্রিসভার একটি ডিক্রি আয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করেছিল। প্রায় ৮৬ বছর পর ২০২০ সালের ১০ জুলাই তুরস্কের আদালত সেই ডিক্রি বাতিল করে দেয়। এর পরপরই এরদোয়ান সরকার এটিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে আদেশ জারি করে।

দেড় হাজার বছরের পুরোনো আয়া সোফিয়া এক সময় ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থোডক্স গির্জা, পরে তা পরিণত হয় মসজিদে। ১৪৫৩ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বছর এটি মসজিদ হিসেবে গণ্য ছিল। এরপরে এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। তুরস্কের আদালতের রায়ের পর এটি আবার মসজিদের মর্যাদা ফিরে পায়।

৮৬ বছর পর ২০২০ সালের ২৪ জুলাই আয়া সোফিয়ায় প্রথমবারের মতো জুমার নামাজ আদায় করা হয়। এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানসহ হাজার হাজার মানুষ জুমা আদায় করতে জড়ো হন।

গতকাল ২৪ জুলাই ছিল আয়া সোফিয়ার মসজিদে রূপান্তরের দ্বিতীয় বার্ষিকী। এ উপলক্ষে তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা জানান, আয়া সোফিয়ার কারণে তুরস্কে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের ভ্রমণের পরিমাণ ও জানার আগ্রহ অনেকখানি বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, উপমহাদেশের মুসলমানরা দীর্ঘকাল ধরে তুরস্ককে ভালোবাসে এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের সময় ২০ শতকের গোড়ার দিকে তারা এর সমর্থনে খিলাফত আন্দোলন (খিলাফত আন্দোলন) শুরু করেছিল। আয়া সোফিয়া আমাদের দ্বিতীয় সুলতান মাহমুদ কর্তৃক কনস্ট্যান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) জয়ের অনুপ্রেরণামূলক ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের মুসলমানরা আয়া সোফিয়াকে ১৯৩৪ সালে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করার পর থেকে একটি মসজিদ হিসেবে দেখার স্বপ্ন দেখেছি। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমরা এখন এই মসজিদে নামাজ পড়তে আগ্রহী।

তরুণ বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ফারুক-ই-আজম সম্প্রতি আয়া সোফিয়া মসজিদ পরিদর্শন করে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি যখন আয়া সোফিয়াকে দেখলাম এবং সেখানে নামাজ পড়লাম তখন আমার ভেতর অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করছিল। আমি সেখানে বসে সুলতান মাহমুদের ঐতিহাসিক ইস্তাম্বুল বিজয়ের দৃশ্য কল্পনা করছিলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো দেশে যাননি, তবে তার দুটি দেশ দেখার স্বপ্ন আছে। প্রথমত, সৌদি আরব মক্কায় পবিত্র স্থান কাবা শরিফ ও মদিনায় মহানবীর (স.) রওজা জিয়ারত করা। দ্বিতীয়ত, ইস্তাম্বুলে গিয়ে আয়া সোফিয়া মসজিদে নামাজ আদায় করা।

প্রখ্যাত বাংলাদেশি সাইক্লিস্ট ও টিভি উপস্থাপক আবুল হোসেন আসাদ বলেন, তিনি ৪৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন কিন্তু তার তুরস্ক সফরটি অন্যগুলো থেকে আলাদা ছিল। কারণ তুরস্ক সাহসের প্রতীক এবং আয়া সোফিয়া আমাকে মনে করিয়ে দেয়, মুসলমানদের সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব রয়েছে এবং কোনো অত্যাচারী শক্তিকে ভয় করা উচিত নয়।

Back to top button