শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে, এটাই হবে শপথ: মায়া

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, আজকে পরিষ্কার করে বলতে চাই, বেগম মুজিবের প্রতি সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধাবোধ তখনই হবে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ধৈর্যসহকারে কাজ করি।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে ও আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমাদের শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী করতে হবে; এটাই হবে শপথ।

রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ আয়োজিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মায়া বলেন, এখন চারিদিকে ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। আল্লাহর রহমতে তিনি এখনো বেঁচে আছেন। এখন তার ভেতরে বুলেট তাড়া করে। তাকে হত্যা করে দেশের ইতিহাস তারা আবার পাকিস্তানি কায়দায় ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল। বিএনপি ও জামায়াত-শিবিররা আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা বারবার বিভিন্নভাবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করতে চায়।

তিনি বলেন, অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আর যেন বাংলাদেশে কোনো হত্যাকাণ্ড করতে না পারে তার জন্য সজাগ থাকতে হবে। এ ছাড়া ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অপশক্তিকে আমরা উৎখাত করবো।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নানা অবদানের কথা তুলে ধরে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনকে পেছন থেকে প্রেরণা দিয়েছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

৭ মার্চের ভাষণের পেছনে তার প্রেরণাটাই ছিল উল্লেখযোগ্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি আগস্ট মাসেই কলঙ্কজনক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিএনপি নামক দলটি জন্ম দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। এই দলটি আবারও হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরীর বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব না থাকলে শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু হতেন কি না সন্দেহ রয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধুকে ও তার আদর্শ এবং দর্শনকে পরিচালনা করেছেন ও প্রেরণা দিয়েছেন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. খালেদা খানম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সহ-সভাপতি মানিক লাল ঘোষ। সভা পরিচালনা করেন সংঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম মৃধা।

Back to top button