এই অবিচার কবে শেষ হবে’

গাজায় তিন দিনের সহিংসতার পর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে এই সহিংসতায় অন্তত ৪৪ জন নিহত ও তিনশর বেশি গাজাবাসী আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ শিশু রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অস্ত্রবিরতি কার্যকরের মাধ্যমে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে গাজায় শুরু হওয়া সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত বন্ধ হওয়ায় আশা জাগতে শুরু করেছে। স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১১টায় অস্ত্রবিরতি শুরু হলে গাজায় হামলা বন্ধ করে ইসরায়েল। এর আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোর পুরোটা সময় ইসরায়েলি বাহিনীগুলো ফিলিস্তিনি লক্ষ্যস্থলগুলোতে একের পর এক বিমান হামলা চালায়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের ক্ষুব্ধ এক সদস্য বলেছেন, ‘এই অবিচার কবে শেষ হবে।’

এদিকে অস্ত্রবিরতি শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল থেকে ফিলিস্তিনি ছিটমহলে জ্বালানি ট্রাক যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। গাজার বিদ্যুৎ কোম্পানি জানায়, পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়ার পর সোমবার স্থানীয় একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ফের চালু হয়েছে। কোম্পানির মুখপাত্র মোহাম্মদ সাবেত এএফপিকে বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্লান্টটি কাজ শুরু করেছে। ইসরায়েলের পণ্য ক্রসিং বন্ধ করার পর জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় শনিবার কারখানাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
রোববার ইসলামিক জিহাদ ও ইসরায়েল পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয়। উভয় পক্ষই অস্ত্রবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতার জন্য মিসরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। মিসরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসলামিক জিহাদ রকেট ছোড়া বন্ধ করলে তাঁদের দুই নেতার মুক্তির দাবি নিয়ে ইসরায়েল ‘আলোচনায়’ বসবে- এমন শর্তে অস্ত্রবিরতি হয়েছে। এবারের এই সংঘাতে গাজার ক্ষমতাসীন দল হামাস জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত ছিল। খবর এএফপি ও আলজাজিরার।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বিমান হামলায় যেসব ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, তাঁদের অর্ধেকই বেসামরিক এবং শিশুও রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামিক জিহাদের ছোড়া রকেটগুলো ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ভীতি ছড়িয়েছে এবং তেলআবিব, আশকেলনসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করেছে। রোববার ইসলামিক জিহাদ তাদের রকেট হামলার সীমা জেরুজালেম পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। তাদের দুই নেতার হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানায় পিআইজে। তবে দিন শেষে গাজাবাসীর ক্ষতির পাল্লাই সবচেয়ে ভারি।

গাজা শহরের অধিবাসী আহমেদ আবু রামাদান আলজাজিরাকে ইসরায়েলি হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘অন্যান্য দিনের মতো আমরা পরিবারের সবাই মিলে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি বিশাল বিস্ম্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়ির দেয়াল আমাদের ওপর ধসে পড়ে। এ ঘটনায় আমার ভাই ইসলাম আবু রামাদান মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।’ ২৩ বছর বয়সী আহমেদ বলছিলেন, ‘আমি আমার বাবা ও মাকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করছিলাম আর দুই হাতে আমার ছোট বোনকে বয়ে নিয়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজ করছিলাম। খুবই বেদনাদায়ক মুহূর্ত ছিল সেটি।’ তিনি জানান, তাঁর ভাইয়ের হাত, মুখ ও শরীরে আঘাত লেগেছে। তাঁর বাবা-মাও মোটামুটি আহত হয়েছেন। তাঁরা সবাই এখন চিকিৎসাধীন। অভিযোগের সুরে আহমেদ বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আহতদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ করা আমাদের এবং গাজা উপত্যকার সব বাসিন্দার জন্য মৃত্যুদ। পরিস্থিতি একেবারেই অসহনীয়। আমরা এখনও কঠিন মানসিক অবস্থায় আছি।’ এ সময় কাঁদতে কাঁদতে আহমেদ জিজ্ঞাসা করেন, ‘বিশ্ব কবে গাজা উপত্যকার মানুষের বিরুদ্ধে অবিচারের অবসান ঘটাবে?’

Back to top button