মহানবীর (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত তাবুকে হচ্ছে আশ্চর্য শহর ‘দ্য লাইন’

শহর বলতে আমরা কী বুঝি? বিস্তৃত ভূমিকে তাইতো। যেখানে নাগরিকরা নিজেদের প্রয়োজনে আবাসিক এলাকায় তৈরি করে অ্যাপার্টমেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস, মার্কেট। কিন্তু জানেন কি?

শহরের এ গতানুগতিক ধারণাকে বদলে দিতে যাচ্ছে সৌদি আরব। ছড়ানো ছিটানোভাবে অবস্থিত ভবনের পরিবর্তে লম্বা একটি সরু লাইনের মধ্যে তৈরি করা হচ্ছে ভবিষ্যতের শহর ‘দ্য লাইন’। কী কী থাকছে এক ট্রিলিয়ন ডলারের এ শহরে?

সৌদি আরবের ১৩টি প্রদেশের মধ্যে ‘তাবুক’ অন্যতম। যেখানেই অবস্থিত ‘মসজিদে তাওবা’। আর এখানেই হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাবুক যুদ্ধে টানা দশদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছিলেন। স্মৃতিবিজড়িত এ তাবুকে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক শহর ‘দ্য লাইন’। এটি তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলেন, সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি আরবের ‘ভিশন টোয়েন্টি থার্টি’ কে সামনে রেখে ‘নিওম’ প্রজেক্টের মধ্যে তিনটি শহর রয়েছে। যাদের মধ্যে একটির নাম ‘দ্য লাইন’।

দীর্ঘ ১৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠছে ‘দ্য লাইন’। তবে মজার ব্যাপার, শহরটির প্রস্থ মাত্র ২০০ মিটার। এদিকে এর কমিউনিটি তিন স্তরে বিন্যস্ত থাকবে। আর এখানে বসবাস করতে পারবেন ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ। শহরটির পুরোটাই চলবে শতভাগ পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানিতে, ফলে বিন্দুমাত্র দূষণ থাকবে না।

এ নিয়ে ‘নিওম’ প্রজেক্টের চিফ অফিসার বলেছেন, ২০২৩ সালে এ শহরের কাজ চোখে পড়ার মতো দৃশ্যমান হবে। সেই অনুযায়ী কাজের গতিও খুব দ্রুত এগোচ্ছে। সৌদি যুবরাজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রযুক্তির দিক থেকে শহরটি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিলিকন ভ্যালি’র মতো।

এ ছাড়া লোহিত সাগরের সৈকতেও অনেক পরিবর্তন আনা হবে। সেখানকার সৈকতের বালু রাতে জ্বলজ্বল করবে। এ ছাড়া কৃত্রিম মেঘ তৈরির প্রযুক্তি থাকবে, ফলে মরুভূমিতেও ইচ্ছামতো বৃষ্টিপাত ঘটানো যাবে।

শিক্ষার ব্যবস্থায় থাকবে- হলোগ্রাফিক শিক্ষক, যেমনটা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে দেখা যায়। বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ করবে রোবট। এ লম্বা শহরের দুই পাশে থাকবে স্বচ্ছ দেয়াল। তাতে আলো প্রতিফলিত হবে। আর এ দেয়ালগুলো প্রায় অর্ধ-কিলোমিটার উঁচু হবে।

শহরটির বেশিরভাগ কাজই চলবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে। ফলে- সময়, অর্থ, শ্রম সাশ্রয় হবে। ১০০ ভাগ ‘রিনিউয়েবল এনার্জির’ মাধ্যমে পুরো শহরের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

এদিকে শহরটি নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের সেরা স্থপতি এবং প্রকৌশলীদের দিয়ে। শহরের মধ্যে থাকবে সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া। ‘দ্য লাইন’ থেকে কোনো কার্বন নিঃসরণ হবে না। এখানের বাসিন্দারা মাত্র ৫ মিনিট দূরত্বের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট লাগবে। ফলে গাড়িরও কোনো প্রয়োজন হবে না।

ধারণা করা হচ্ছে, স্বপ্নের মতো এ শহরটির কাজ শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে। কি থাকবেন নাকি ভবিষ্যতের আশ্চর্যের শহর ‘দ্য লাইনে’?

Back to top button