আ’লীগ থেকে বাদ, এবার এমপি পদের কী হবে?

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাকে। এবার তার সংসদীয় পদের কী হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে বিষয়টি পরিষ্কার হতে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অব্যাহতিপত্রের জবাব পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিষয়টি সেখানেও মীমাংসিত না হলে নেওয়া হতে পারে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত।

তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সোমবারই এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। সেদিন কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও মঙ্গলবার এমপির কর্মীসমর্থকরা দাবি করেছেন, তাদের নেতা স্থানীয় রাজনীতির ষড়যন্ত্রের শিকার। এমপির এলাকায় ফেরার দিন তার কর্মীসমর্থকরা বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কেন্দ্র থেকে দেওয়া অব্যাহতিপত্রের জবাব ১৫ দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে পঙ্কজ দেবনাথকে।

সংসদ সদস্য পদ কেন বাতিল হয়, সেই বিষয়ে আলোচনা রয়েছে সংবিধানের ৬৬ ও ৭০ অনুচ্ছেদে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘কোনো ব্যক্তি কোনো আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ও দেউলিয়া ঘোষিত হলে, বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করলে, ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত হলে, প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে থাকলে এবং ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সদস্যপদ শূন্য হতে পারে।’

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।’

কিন্তু দল যদি কাউকে বহিষ্কার করে, সেক্ষেত্রে কী হবে- সংবিধানে তার উল্লেখ নেই। তবে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাওয়ার আগেই বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি চিঠি পাঠানো হয়। এরপরই দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগে তার (পঙ্কজ) বিষয়ে কোনো আলোচনা করা হবে না। আজকে এই অবস্থার জন্য সে নিজেই দায়ী। সেই তার বিপদ ডেকে এনেছে।’

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে–সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’পঙ্কজ দেবনাথের কর্মীসমর্থকদের শোডাউন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে দিতে পারে, এটা তার (পঙ্কজ দেবনাথ) বিষয়। তবে এলাকায় কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হলে এর দায়ভার এমপিকে নিতে হবে।’

পঙ্কজ দেবনাথ স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন তার কর্মীসমর্থকেরা। এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আজকে একটি শক্তিশালী পক্ষ তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা অভিযোগ এনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এসব করা হয়েছে। যারা আজকে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন এলাকায় তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর হিজলা ও ১৮ সেপ্টেম্বর মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এ আশঙ্কা থেকেই পঙ্কজ দেবনাথকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিতে কেন্দ্রে রেজুলেশন পাঠানো হয়।

বিরোধী পক্ষের অনেকেই মনে করেন, পঙ্কজ দেবনাথকে দলীয় পদে রেখে ওই দুই উপজেলায় সম্মেলন করা হলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা হতে পারে। পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পেছনে এটাও একটা বড় কারণ বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা।তবে এ বিষয়ে পঙ্কজ দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

Back to top button