শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের ১০ শতাংশ কর্তন নিয়ে রুল

দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনের ৬ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ কর্তনের বিপরীতে বাড়তি আর্থিক সুবিধা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসরের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা কেন এক বছর অথবা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিটকারীদের সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জারি করা রুলের লিখিত অনুলিপি হাতে পেয়েছেন বলে বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া। তিনি বলেন, গত ৩১ আগস্ট রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া জানান, বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা) কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা প্রবিধানমালা, ২০০৫ এর আলোকে বেতন থেকে অবসরের জন্য ৬ শতাংশ কর্তন করা হতো। কর্তনকরা অর্থ থেকে অবসরের পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের এককালীন আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতো।

তবে ২০১৭ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এস আর ও নম্বর ৮৪ এবং এস আর ও নম্বর ৮৯ জারি করে এর মাধ্যমে ওই কর্তনকরা ৬ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে, যা ২০১৯ সালের এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হয়।২০১৯ সালের এপ্রিল মাস থেকে সমস্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনের ৬ শতাংশের পরিবর্তে বর্ধিত হারে ১০ শতাংশ কর্তন করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ৪ শতাংশ বর্ধিত কর্তনের জন্য কোনো প্রাপ্য অতিরিক্ত সুবিধা অবসর গ্রহণকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

একই সঙ্গে এ কর্তনকরা ১০ শতাংশ অবসরের পর অনেক সময় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের জমা করা অবসর সুবিধা পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা হাইকোর্টে রিট করেন।

আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনের ১০ শতাংশ কর্তন করা হচ্ছে, কিন্তু তাদের অবসরকালীন সুবিধা পুর্বের ছয় শতাংশ হারে পরিশোধ করা হচ্ছে। এটা বৈষম্যমূলক এবং অধিকারের চরম লঙ্ঘন। সারাদেশের প্রায় ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারী এ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

Back to top button