বিয়েতে দেনমোহর ১০১টি বই!

কতই না বিচিত্র মানুষ। বৈচিত্র্য চিন্তাভাবনায়, কাজে কিংবা উদযাপনে। সারাজীবনের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখতে কত কিছুই না করেন। কেউ গভীর সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে ওয়েডিং রিং পরান; কেউবা পর্বতের শিখরে উঠে সই করেন বিয়ের দলিলে। বাংলাদেশেও বিয়ের অনুষ্ঠানেও লেগেছে এমন বৈচিত্র্যের ছোঁয়া।

এবার তেমনই এক ব্যতিক্রমী বিয়ের সাক্ষী হলেন বগুড়া ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি কাজী অফিসের রেজিস্ট্রার কাজী আব্দুল হান্নান। দেনমোহর হিসেবে ১০১ টি বই দিয়ে শান্তনা খাতুনকে বিয়ে করলেন ধুনট উপজেলার নিখিল নওশাদ। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোসাইবাড়ী কাজি অফিসে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

নিখিলের বাড়ি গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের সাতরাস্তা গ্রামে। ‘বিরোধ’ নামের একটি স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদনা করেন তিনি। পাশাপাশি বেসরকারি একটি কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। আর কনে শান্তনা খাতুন সোনাতলার কামালেরপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে। উত্তর চেলোপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শান্তা।

বরের বাবা শামসুল ইসলাম ব্যতিক্রমী এ বিয়ের বিষয়ে বলেন, নিখিল ১০১টি বই দেনমোহর হিসেবে পুত্রবধূকে দিয়েছি। এই বইগুলোর মোট আর্থিক মূল্য ২ লাখ ২ হাজার টাকা। বর নিখিলের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, কবিতার সূত্র ধরেই ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী শান্তনা খাতুনের সঙ্গে তার পরিচয়। পরিচয় থেকে ভাবের আদান-প্রদান। অবশেষে সেটি রূপ নিল দাম্পত্য। তবে দাম্পত্য জীবন শুরুর আগে শান্তনার ভিন্ন শর্ত ছিল। সোনাদানা নয়, বিয়ের দেনমোহর হিসেবে উপহার চান ১০১টি প্রিয় বই। সেই প্রিয় বইয়ের তালিকাও দিয়েছেন।’

বিয়ের পর পারিবারিক একটা গ্রন্থাগার গড়ার স্বপ্ন তাদের। সেখানে দেনমোহরের প্রিয় ১০১টি বই সাজিয়ে রাখবেন। কনে শান্তনার প্রিয় বইয়ের তালিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হাসান আজিজুল হক, সৈয়দ মুজতবা আলী ছাড়াও দুই বাংলার জনপ্রিয় ও বিদেশি লেখকের বই আছে।

Back to top button