ময়মনসিংহে ছেলে পিটিয়ে হত্যা করল বাবাকে, নাতি নানাকে

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ছেলে বাবাকে আর নাতি নানাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক ঘটনা দুটি ঘটে উপজেলার ঘোগা ইউনিয়নের কালিকাপুর ও হাতিল গ্রামে। এ ঘটনায় ঘাতক নাতি ফরিদ মিয়া ও ছেলে জহিরুল ইসলামসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা ও নানা মারা যান। বুধবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মুক্তাগাছা থানার ওসি মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, মঙ্গলবার পড়ন্ত বিকেলে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে জহিরুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে তার বাবা সোবহান আলীকে (৬০)। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতে তারও মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় ছেলে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অপরদিকে একই ইউনিয়নের হাতিল গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী নাতী ফরিদ মিয়া ৫ বছর আগে তাবলিগ জামায়াতে গিয়ে বক্তার বক্তব্য নিয়ে দুইজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায় ওই সময় নানা শাহজাহান আলী, নাতী ফরিদ মিয়ার কানে আঘাত করেন। এতে ফরিদ মিয়ার কানের সমস্যা হয়। এরই সূত্র ধরে দীর্ঘ ৫ বছর পর মঙ্গলবার বিকালে প্রতিবেশী নানা শাহজাহান ধান ক্ষেত থেকে সাইকেলে বাড়িতে ফিরছিলেন।

স্থানীয় বরিল বিলের রাস্তায় এলে পেছন থেকে ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন ফরিদ মিয়া। তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি রাতে মারা যান। এ ঘটনায় ফরিদ মিয়া ও তার বাবা হাবুল মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, ভারসাম্যহীন ছেলের লাঠির আঘাতে পিতা সোবহান আলী ও প্রতিবেশী নাতির ক্রিকেট ব্যাটের আঘাতে শাহজাহান আলীর মারা যান। তবে সোবাহান আলীর ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। দুই ঘাতককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর ফরিদের বাবা হাবুল মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

Back to top button