‘খাটি’ আখের গুড়ের নামে আমরা এসব কী কিনে খাচ্ছি !

রাজশাহীর বাঘায় চিনি, ডালডা, চুন, আটা ও কেমিক্যাল দিয়ে বানানো হতো ভেজাল গুড়। যা ‘খাটি’ বলে বিভিন্ন হাটে বাজারে বিক্রি করা হতো। আর ‘খাটি’ আখের গুড়ের নামে এসব খাচ্ছেন মানুষ।র‌্যাব-৫ এর কোম্পানি কমান্ডারের নেতৃত্বে ভেজাল গুড়ের কারখানায় অভিযান চালায়। এ সময় ৮৫৫ কেজি ভেজাল গুড় ও তৈরির উপকরণ ধ্বংস করে কারখানার মালিক সেকেন্দার আলীর ৩ লাখ ও দুলাল হোসেনের ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 জানা গেছে, উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের মৃত নয়ন মণ্ডলের ছেলে সেকেন্দার আলী ও মৃত আকুল মণ্ডলের ছেলে দুলাল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে আখের ভেজাল গুড় তৈরি করে আসছিলেন। চিনি, মোনালিসা, নানা রকম কেমিক্যাল, চুন, হাইড্রোজ, ফিটকিরি, ডালডা, আটা ব্যবহার করে এই ভেজাল গুড় তৈরি করছিলেন।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫ এর কোম্পানি কমান্ডারের নেতৃত্বে মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এই দুটি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে সেকেন্দার আলীর কারখানায় ৫৫৫ কেজি এবং দুলাল হোসেনের কারখানায় ৩০০ কেজি ভেজাল গুড় জব্দ করে।

পরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে র‌্যাব-৫ এর সহায়তায় প্রথমে সেকেন্দার আলীর ৩ লাখ টাকা এবং পরে দুলাল হোসেনের ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় ভেজাল গুড় ও তৈরির উপকরণ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

প্রতিকেজি ৮৫ টাকা হিসেবে ধ্বংস করা ভেজাল ৮৫৫ কেজি গুড়ের আনুমানিক বর্তমান বাজার মূল্য ৭২ হাজার ২৫০ টাকা বলে র‌্যাব-৫ এর অভিযানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

  উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ আগস্ট র‌্যাব-৫ এর সহযোগিতায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ভেজাল গুড়ের কারখানার মালিক সেকেন্দার আলীর দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং ৭০০ কেজি ভেজাল গুড় ও তৈরির উপকরণ ধ্বংস করেন।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ বলেন, চিনি দিয়ে গুড় তৈরির কারখানার মালিক সেকেন্দার আলী ও দুলাল হোসেন অধিক মুনাফা লাভের আশায় চিনি, চুন, ফিটকিরি, হাইড্রোজ ও কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করে হাট-বাজারে বিক্রি করে আসছে। সেই সাথে গুড়ের রং উজ্জ্বল করতে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গুড় ও তৈরির উপকরণ ধ্বংস এবং অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

Back to top button