‘পরিবার বিচ্ছিন্ন’ ফাঁসির আসামি ২০ বছর যেভাবে পালিয়ে ছিলেন

২০০২ সালের ৩০ মার্চ। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ব্যবসায়ী জানে আলমকে তার এক বছরের শিশুর সামনে হত্যা করে সৈয়দ বাহিনী ও তার সন্ত্রাসীরা। ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা সেই মামলায় ফাঁসির রায় হয়েছিল আসামি সৈয়দ আহমেদের। এরপর ২০ বছর ধরে হদিস নেই তার। অবশেষে দুই দশক পর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে র‍্যাবের হাতে ধরা পড়ে সে।

গ্রেপ্তার সৈয়দ আহম্মেদের বয়স এখন ৬০ বছর। তার বাড়িও লোহাগাড়ার আমিরাবাদে। গত ২০ বছর ধরে উদ্বাস্তু, বাবুর্চি ও দারোয়ানের ছদ্মবেশে পলাতক ছিলেন তিনি। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক নুরুল আবসার জানান, এ হত্যাকাণ্ডের পর ২০ বছর আসামি সৈয়দ আহম্মেদ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিলেন। চট্টগ্রামের বাঁশখালী বিভিন্ন ডাকাত দলের সাথে সমুদ্র পাড়ি দেয়।

পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিছুদিন উপকূলীয় এলাকায় এবং পরে সীতাকুণ্ডে অবস্থান করেন। বিভিন্ন মাজার এলাকায় বাবুর্চির কাজ করেন। এছাড়াও আকবরশাহ থানায় একটি বাড়িতে দারোয়ানের ছদ্মবেশে কাজ করেন। পরিচয় গোপন রাখতে দুটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করিয়ে নেন তিনি।

গোপনে খবরের ভিত্তিতে ২০ বছর ধরে পালিয়ে ও দারোয়ান সেজে পলাতক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত আসামি সৈয়দ আহমেদকে চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাবের একটি দল। প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ৩০ মার্চ জানে আলমকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে তজবিরুল আলম বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় ২১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই বিচারিক আদালত ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা সেই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সৈয়দ আহমেদসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ৮ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

পরবর্তীকালে আসামিরা সুপ্রিম কোর্টে আপীল করলে সুপ্রীম কোর্ট সৈয়দ আহম্মেদসহ মোট ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। হত্যাকাণ্ডের দুই দশক পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী ‘জানে আলম’ হত্যা মামলার আসামি সৈয়দ আহমেদকে আটক করেছে র‍্যাব।

Back to top button