বিএনপির জন্য বঙ্গভবনে অপেক্ষায় থাকবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংলাপে না যাওয়ার কথা জানালেও বিএনপির জন্য সময় রেখেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।  বুধবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে অপেক্ষায় থাকবেন তিনি।এর আগেও দুটি নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি গঠন করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে। দুইবারই বঙ্গভবনে গিয়ে আলোচনা করে আসেন বিএনপি নেতারা। তবে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ ও কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের করা দুটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রবল আপত্তি আছে।

এই অবস্থায় রাষ্ট্রপতির তৃতীয় সংলাপকে ‘অর্থহীন’ আখ্যা দিয়ে তাতে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বঙ্গভবনে আগেই চিঠি পাঠিয়েছে দলটি। বিএনপি এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর আরও বেশ কিছু দল সংলাপ বর্জন করেছে।

গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী অবশ্য মনে করেন বিএনপির এই সংলাপে অংশ নেয়া উচিত। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে এসে গণমাধ্যমকে এই কথা বলেছেন তিনি।

তবে রাষ্ট্রপতি সময় রাখলেও বিএনপির সিদ্ধান্ত পাল্টাবে না বলে সাফ জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘এটা পুনর্বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই। এসব নামেমাত্র সংলাপে অংশগ্রহণ করে বিএনপির এখন যে সময় যাচ্ছে, তা নষ্ট করতে চাই না।’

বরং আন্দোলনে দলটি এখন বেশি মনোযোগী হচ্ছে বলেও জানালেন বিএনপির এই নেতা। সংলাপে অংশ না নেয়ার বিষয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। দুই দিন পর এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়ে দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এতে তিনি বলেন, ‘বিএনপি মনে করে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যতীত নির্বাচন কমিশনের গঠন নিয়ে সংলাপ শুধু সময়ের অপচয়।’

এর আগে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বঙ্গভবনের আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও সংলাপে অংশ নেয়নি।

কোনো রাজনৈতিক দল সংলাপে না গেলেও নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চলমান সংলাপে অংশ নিতে সোমবার বঙ্গভবনে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা। এদিন বিকেল ৪টায় তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বঙ্গভবন।

সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলো ৭ থেকে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে বঙ্গভবনে যাওয়ার সুযোগ পেলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে জানা গেছে।ক্ষমতাসীন দলটির এক নেতা জানান, আগের ধারবাহিকতায় এবারও সংলাপে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রতিনিধি দলে থাকবেন।

কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে। এই সময়সীমার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩২টি দলকে সংলাপে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বঙ্গভবন।

হুদা কমিশনের পর যারা নির্বাচন কমিশনে আসবে, তারাই আগামী জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করবে।স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো আইন তৈরি হয়নি দেশে। তবে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির।

আইন না থাকায় ২০১২ সাল থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে চার কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে দেশে।সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ২০১২ সালে এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ২০১৬ সালে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন।

পাঁচ বছর আগের সংলাপে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটির প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নিতে বঙ্গভবনে যান।

 

Back to top button