ডিসেম্বরেই কাউন্সিল করবে আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার ওপর দায়িত্ব ছিলো তার বিভাগের মেয়াদোত্তীর্ণ জেলাগুলোর সম্মেলন সম্পন্ন করা। সম্মেলনের জন্য তিনি দিন-তারিখও দিয়েছিলেন। এ অবস্থায় করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি এবং তার অসুস্থতার জন্য তিনি সম্মেলন করবেন কিনা, এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতির মতামত জানতে চান। আওয়ামী লীগ সভাপতিকে তিনি বার্তা পাঠান। আওয়ামী লীগ সভাপতি তার জবাবে জানান যে, যদি সাংগঠনিক সম্পাদক অসুস্থ থাকে তাহলে তার বদলে অন্য কোন ব্যক্তি এ সম্মেলনগুলো করবে।

কিন্তু সম্মেলনের তারিখ পেছানো যাবে না। আর এভাবেই আওয়ামী লীগ করোনার মধ্যেও তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ সম্মেলনগুলো সম্পন্ন করছে। প্রত্যেকটা জেলায় জেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। এ সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই একটি নতুন কাউন্সিল করার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচনের আগে সংগঠন গোছানোর জন্যই আওয়ামী লীগ সভাপতি ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি, মতবিরোধ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিভক্তি মতবিরোধ তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ। এরকম পরিস্থিতিতে সংগঠনকে শক্তিশালী করা আগামী নির্বাচনের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আর সংগঠনের বিশৃঙ্খলাগুলো দূর করে আবার ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে নির্বাচনের মাঠে নামানোর জন্য অন্তত এক বছর সময় প্রয়োজন বলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন। আর এই কারণেই ডিসেম্বরের মধ্যেই আওয়ামী লীগ তার কাউন্সিলর অধিবেশন সম্পন্ন করতে চায়। ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের নতুন সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকেও সম্মেলন শুরু করার প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্যেও নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। আর এভাবেই এগোলে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন আগামী ডিসেম্বর নাগাদ হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের অন্তত দুইজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনের অন্তত এক বছর আগে কাউন্সিল করতে চান। আর সে বিবেচনা থেকে ডিসেম্বরে না হলেও জানুয়ারির মধ্যে আওয়ামী লীগ কাউন্সিল করবে। এ কাউন্সিলের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলবে বলেও জানা গেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি দল এবং সরকারকে আলাদা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

এই উদ্যোগে সাফল্যও পাওয়া যাচ্ছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, বাহাউদ্দিন নাছিম, এস এম কামালের মত নেতারা এখন দলের জন্য সক্রিয় হচ্ছেন। আর দল এবং সরকার আলাদা করার নীতিটি আসলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছিলো। আর এর কারণেই তিনি শক্তিশালী দল গঠন করতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সংগঠন গড়ার জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। আর এই আলোকেই শেখ হাসিনা আস্তে আস্তে সরকার এবং দলকে আলাদা করছেন।

এখন সরকারে দলের নেতা আছেন মাত্র ৫ জন। এ সংখ্যা আগামী কাউন্সিলে আরও কমিয়ে আনা হবে। আগামী কাউন্সিলে যে একজন নতুন সাধারণ সম্পাদক হবে সেটি নিশ্চিত এবং এটিই হবে কাউন্সিলের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। এসবের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতিতে যাবে বলেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

Back to top button