ফখরুলের করোনা নিয়ে বিএনপিতে সন্দেহ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন তিনি তার নিজ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। কিন্তু বিএনপি’র অনেকেই এই সময় তার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের চোখে দেখছেন। বিএনপির চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি করোনা পরীক্ষা করেছেন এবং তার করোনা পজিটিভ আসার পরই তিনি এবং তার স্ত্রী আইসোলেশনে গেছেন।

বিএনপিপন্থী একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রথমে তার স্ত্রী করোনা পজিটিভ আসে এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর করোনা পরীক্ষা করেন এবং তার ও পজিটিভ আসে। এরপর পরই তিনি সব কর্মসূচি থেকে নিজেকে গুটিয়ে বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। কিন্তু বিএনপির কিছু নেতা এই সময় তাঁর করোনা আক্রান্তের বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তারা বলছেন যে, যখন সরকার করোনার কারণে রাজনৈতিক সভা সমাবেশের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে এবং যখন বিএনপি আস্তে আস্তে কর্মসূচিটাকে বেগবান করার চিন্তা ভাবনা করছেন সেই সময় মির্জা ফখরুলের করোনার আক্রান্ত হওয়াটা রহস্য জনক।

এর সঙ্গে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও অনেক বিএনপি কর্মীরা মনে করছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কখনোই বিএনপিতে বিশ্বস্ত নন। বিশেষ করে কর্মীদের মধ্যে তার ব্যাপারে অনেক সংশয় এবং অবিশ্বাস রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রক্রিয়ার পর থেকেই বিএনপি’র অনেকেই বিশেষ করে বিএনপি’র উগ্রবাদী কর্মীরা তার সঙ্গে সরকারের গোপন যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে করেন। বিএনপির অনেক কর্মী মনে করেন যে, সরকারকে আরেকবার ক্ষমতায় রাখার এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই ২০১৮ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল। এমনভাবে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছিল যেনো বিএনপি নির্বাচনে হেরে যায় এবং ঐ নির্বাচনে হারার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো এই সন্দেহকে তীব্র করেছে। বিশেষ করে বিএনপি’র সংসদ সদস্যদের সংসদে যোগদানের সিদ্ধান্তে কর্মীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, তারেক জিয়ার নির্দেশেই এটি করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও কর্মীরা মনে করেন যে, তারেক জিয়া বিদেশে থাকেন এরকম নির্দেশনা তিনি দিলেও তাকে বাস্তবতাটা বুঝানো উচিৎ ছিল, কর্মীদের মনোভাবটা বোঝানো উচিত ছিল। এরপর থেকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির কর্মীরা বিশ্বাস করতে পারে না। বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বহন করেছে এমন গুঞ্জন এর প্রেক্ষিতে তিনি রীতিমতো বিএনপিতে একজন ভিলেন।

এখন যখন বিএনপি গত নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এই আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কর্মীদের মধ্যে কিছুটা হলেও চাঞ্চল্য এসেছে সেই সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসুস্থ হলেন। বিএনপির প্রধান তিন নেতার মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া এখন দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তারেক জিয়া লন্ডনে আছেন। বাংলাদেশের বাস্তবতা সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল নন। কাজেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হলেন দলের প্রধান নেতা। সেই প্রধান নেতাই যখন রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে গুটিয়ে আইসোলেশনে থাকেন তখন দলের সাংগঠনিক তৎপরতা যে বিঘ্নিত হবে এটা বলাই বাহুল্য। গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী করোনা নিয়ে সরকারের বিধি নিষেধের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করছেন যে সরকার হয়তো বিএনপির কর্মসূচিকে দমানোর জন্যই এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যদিও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের বক্তব্যকে উদ্ভট এবং হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেছেন যে, করোনার প্রকোপ বাড়ছে, এটির মধ্যে কোন রাজনীতি নেই এবং এরকম পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধ আরোপ যুক্তিসঙ্গত।

কিন্তু রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অসুস্থতার মধ্যে যোগসাজশ করছেন বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা। তারা মনে করছেন, ফখরুল কি তাহলে আবার সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে করোনা আক্রান্ত হবার নাটক সাজালেন।

সুত্রঃ banglainsider.com

Back to top button