মরক্কোর শিশু রাইয়ানের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ বিশ্ব

পাঁচ বছরের একটি শিশু- যে বাবা সঙ্গে একটি কূপের সংস্কারকাজ দেখতে গিয়ে তাতে পড়ে গিয়েছিল, সে আর ফেরেনি।পাঁচদিনের নিরন্তর উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ করে অসীমের পথে পা বাড়িয়েছে সে। তাকে কূপের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তার উদ্ধারকাজ দেখতে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরাসরি দেখানো হয় উদ্ধার অভিযানের দৃশ্য। পুরো পৃথিবী যেনো প্রার্থনায় বসে পড়ে ছোট্ট রাইয়ানকে জীবিত ফিরে পেতে।

দেশে দেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে সবাই অপেক্ষা করতে থাকেন, শেষ দৃশ্যটা দেখার জন্য। কিন্তু সেই দৃশ্যটি ছিল অপ্রত্যাশিত ও ট্র্যাজিক। ছোট্ট রাইয়ান ওমর আর ফেরেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাইয়ানকে উদ্ধারে প্রত্যাশার চিত্র।

গত মঙ্গলবার রাইয়ান ওই কূপে পড়ে যায়। শনিবার সন্ধ্যায় তার প্রাণহীন নিথর দেহের কাছে পৌঁছান উদ্ধারকারীরা। তাকে জীবিত পেতে টুইটারে হ্যাশট্যাগ সেভ রাইয়ান ছড়িয়ে পড়ে। তার জন্য প্রার্থনা করেন বিশ্বের নানা ধর্মের মানুষ। মরক্কোর চতুর্থ কিং মোহাম্মদ এক ফোন কলে রাইয়ানের পিতামাতাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একটি হলুদ কম্বলে মোড়া অবস্থায় উপরে তুলে হয় রাইয়ানের মরদেহ। এক ফেসবুক পোস্টে ফরাসি প্রেসিডেন্ট রাইয়ানের মাতা-পিতার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি লিখেন, ‘আজ রাতে (শনিবার) ছোট্ট রাইয়ানে পরিবার ও মরক্কোর মানুষকে আমি বলতে চাই যে, আমরা তাদের কষ্ট শেয়ার করি।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদও রাইয়ানের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাইয়ানকে উদ্ধারের কাল্পনিক বেশ কিছু ছবিও শেয়ার করেন অনেকে। তারা দেখান যে, রাইয়ান তার বাবার কোলে ফিরেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Back to top button