বুস্টার ডোজের পরও করোনা, যা বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

গণমাধ্যমকর্মী মোর্শেদ হাসিব। করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়ার ১০ মাস পর গত সোমবার বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। টিকা নেয়ার পর থেকেই জ্বর-সর্দি। বুস্টার ডোজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভেবে নেন মোর্শেদ হাসিব। পরদিন মঙ্গলবারও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় করোনা পরীক্ষা করেন। নমুনা পরীক্ষায় কোভিড পজিটিভ আসে।

মোর্শেদ হাসিবের মতো অনেকে বুস্টার ডোজ নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, টিকার বুস্টার ডোজ নেয়ার পরও কেন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা স্বাভাবিক ঘটনা। এই টিকার এটাই প্রকৃতি। তবে বুস্টার ডোজে করোনা আক্রান্ত হলেও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে হয় না। মৃত্যুর হারও অনেক কম। তাই দেরি না করে টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

যাদের করোনা টিকা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর ছয় মাস পার হয়েছে, তাদের সুরক্ষার জন্য এখন বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে। তবে বুস্টার ডোজ দিলে করোনা থেকে শতভাগ সুরক্ষা মিলবে এমন নয়। বাংলাদেশ যে টিকা এনেছে, সেটি প্রথম ডোজের পর ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কার্যকর বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। আর দ্বিতীয় ডোজ দিলে সেটির কার্যকারিতা ৯০ শতাংশ হতে পারে। তবে এই অ্যান্টিবডি মানুষের শরীরে ছয় থেকে ৯ মাস স্থায়ী হয়। তাই দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে ৬ মাস অতিবাহিত হয়েছে এমন ৬০ বছরের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীকে দেশে বুস্টার দেয়া হচ্ছে।

গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকা শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে ১২ কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। টিকা পেতে নিবন্ধন করেছেন দেশের ৪২ শতাংশ মানুষ। সরকারের সিদ্ধান্ত আগামী মার্চের মধ্যে ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা হবে।

বুস্টার ডোজ নিয়ে কেন মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে, জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সায়েদুল রহমান বলেন, বুস্টার ডোজ নেয়ার পরে অনেক কারণে কেউ কেউ করোনা আক্রান্ত হতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘টিকা দেয়ার আগে ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত আছেন কি না, সেটা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। ফলে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তিকেও টিকা দেয়া হচ্ছে। টিকা নিতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে গিয়েও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার যারা টিকা নিচ্ছেন, তারা অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। যে কারণে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আগেই তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।’

সায়েদুল রহমান জানান, করোনা প্রতিরোধে দেশে টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। তবে কেউ টিকা নিলেই যে করোনা আক্রান্ত হবেনই না, এমন না। করোনার টিকা নিলেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। করোনা প্রতিরোধে টিকা একটি বড় হাতিয়ার।

এ ছাড়া টিকা নেয়ার পরে যারা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের জটিল পরিস্থিতি কম তৈরি হচ্ছে। টিকা নেয়া ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা অনেক কম। টিকা নেয়া ব্যক্তির করোনা আক্রান্তের হার ১০ শতাংশ এবং মৃত্যু হার ১ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ৬০ বছরের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীকে বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে। বুস্টার ডোজের বয়সসীমা কমানো হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের দুটি ডোজ শেষ হওয়ার পর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে আরও তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজের ক্ষেত্রেও তা একই রকম। সে পর্যন্ত সতর্ক না থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো করোনা শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত রোগী পাওয়া গেছে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৪২ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৩০৬ জন।

সূত্র : নিউজবাংলা

Back to top button