প্রচলিত আইন বাংলায় করতে লিগ্যাল নোটিশ

দেশে ইংরেজি ভাষায় সর্বাধিক প্রচলিত আইনগুলো বাংলায় রূপান্তর কর করতে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ১০ আইনজীবী।  বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে এ নোটিশ পাঠান আইনজীবী শিশির মনির।

নোটিশ দাতা ১০ আইনজীবী হলেন- মোস্তাফিজুর রহমান, মীর ওসমান বিন নাসিম, মো. আসাদ উদ্দিন, মোহা. মুজাহিদুল ইসলাম, মো. জোবায়েদুর রহমান, মো. আব্দুস সবুর দেওয়ান, আল রেজা মো. আমির, আব্দুল্লাহ হিল মারুফ ফাহিম, জি এম মুজাহিদুর রহমান ও মো. জহিরুল ইসলাম।এ বিষয়ে আইনজীবী শিশির মনির জানান, নোটিশ হাতে পাওয়ার পর সাতদিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে আইনি প্রতিকার চাওয়া হবে।

নোটিশে বলা হয়, আদালতের সব ধরনের কার্যাবলি আইনের আলোকে পরিচালিত হয়। আদালতের কার্যক্রম সংক্রান্তে মৌলিক আইনগুলো- দণ্ডবিধি ১৮৬০, সাক্ষ্য আইন ১৯৭২, চুক্তি আইন ১৮৭২, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭, সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট ১৮৮৭, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮, দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এবং তামাদি আইন ১৯০৮।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস ১৯৮৮, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস ১৯৭৩, ক্রিমিনাল রুলসের অর্ডারস ২০০৯, সিভিল রুলস রুলসের অর্ডারস। অধিকাংশ আইন ব্রিটিশ আমলে এবং ইংরেজি ভাষায় প্রণীত।

নোটিশে আরও বলা হয়, আদালতে ফৌজদারি এবং দেওয়ানি মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব আইনের গুরুত্ব ও ব্যবহার সর্বাধিক। এ আইনগুলোর বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রণয়ন ও প্রকাশ ব্যতীত আদালতের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের আইনি বিধান সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং অযৌক্তিক।

এখন পর্যন্ত এসব মৌলিক আইনের কোনো নির্ভরযোগ্য বাংলা পাঠ প্রণয়ন করা হয়নি। সর্বস্তরে বিশেষত আদালতে বাংলা ভাষা প্রচলনের স্বার্থে উক্ত মৌলিক আইনসমূহের বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ অত্যাবশ্যক।এমতাবস্থায় মৌলিক আইনগুলোর বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ (অথেনটিক টেক্সট) প্রকাশে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে নোটিশে অনুরোধ জানানো হয়।

ইংরেজি আইনগুলোর বাংলা পাঠ প্রচলনে নোটিশগ্রহীতারা কী উদ্যোগ নিয়েছেন- তা সাতদিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইন ও সংবিধান অনুসারে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়।

Back to top button