মাদক ষড়যন্ত্রে যুক্ত নন শাহরুখপুত্র আরিয়ান

ভারতের নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো জানিয়েছে, বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান মাদক পাচারের সাথে যুক্ত ছিলেন না। ব্যুরো আরো জানিয়েছে, এমনকি আরিয়ান নিজেও মাদক গ্রহণ করতেন না। এর ফলে আরিয়ান খানের জীবন থেকে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় মুছতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (এনসিবি) একটি তদন্তকারী দল (এসআইটি) বুধবার জানিয়েছে, মাদক মামলা বা আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের সাথে কোনোভাবে যুক্ত নন শাহরুখ খানে ছেলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরিয়ান যে মাদক নেয়া বা মাদক পাচারের সাথে যুক্ত ছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই। দলের দাবি, তদন্ত করতে গিয়ে প্রমোদতরী অভিযানে অভিনেতা-পুত্রকে গ্রেফতারের পিছনেও অনেক ফাঁক চোখে পড়েছে তাদের।

ভারতের জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তদন্তকারী দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আরিয়ান মাদক পাচারের সাথে যুক্ত ছিলেন না। তিনি নিজেও মাদক নিতেন না! তাই, কী কারণে তার মোবাইল ফোন আটক করা হয়েছিল, কেনই বা ফোনের বার্তা দেখা হয়েছিল- তারা তদন্তে নেমে বুঝতেই পারেননি। কারণ, অভিনেতা-পুত্রের কোনো বাক্যালাপে মাদক সম্বন্ধীয় কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই। তাদের আরো দাবি, এনসিবি-র থেকে যে অভিযান চালানো হয়েছিল তারও কোনো ভিডিও রেকর্ডিং নেই। অর্থাৎ, মামলায় গ্রেফতার একাধিক আসামির থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে, এমনটাও দেখাতে পারবে না সংস্থা।

যদিও চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করার আগে তদন্তকারী দল আরো একবার গোটা বিষয় খুঁটিয়ে দেখবে বলে খবর। তার পর তদন্তকারী অফিসারেরা এনসিবি-র শীর্ষপ্রধান এস এন প্রধানের হাতে তাদের যাবতীয় তথ্য জমা দেবেন। ফলে, পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ হতে আরো কয়েক মাস সময় লাগবে। তখনই জানা যাবে, আরিয়ান আদৌ অপরাধী কিনা। প্রমোদতরী অভিযান, তদন্তের ফাঁকের পাশাপাশি সিট প্রশ্ন তুলতে চলেছে ব্যুরোর সাবেক মুম্বই আঞ্চলিক দলের পরিচালক সমীর ওয়াংখেড়ের আচরণ নিয়েও। অভিযান এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতিমধ্যেই একাধিকবার ওয়াংখেড়েকে ফিরিয়ে এনে প্রশ্নও করেছে সিট এবং এনসিবি ভিজিল্যান্স দফতর।

ওয়াংখেড়ে গত ২ অক্টোবর রাতে মুম্বইয়ের গ্রিন গেটে আন্তর্জাতিক জাহাজ বন্দর থেকে কর্ডেলিয়া নামের প্রমোদ তরীতে অভিযান চালান। তার সাথে ছিলেন এনসিবি-র এক দল অফিসার। এবং কিছু প্রত্যক্ষদর্শী। ওই জাহাজে অভিযান চালিয়ে ১৩ গ্রাম কোকেন, পাঁচ গ্রাম মেফেড্রোন, ২১ গ্রাম মারিজুয়ানা, ২২টি মাদক বড়ি এবং ১.৩৩ লাখ রুপি বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। যদিও সিটের করা তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল বলছে, বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত ২৮ অক্টোবর শাহরুখ-পুত্রকে জামিন দেয়ার সময় আরিয়ান সম্পর্কে ‘বেকসুর খালাস’ বাক্যবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছিল।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Back to top button