আছমার সঙ্গে জঙ্গলে ২ ঘণ্টা, পৈচাশিক আনন্দ নিয়ে ফিরলো আলমগীর

কথা ছিল স্বামীর সঙ্গে ঘুরবেন, ছবি তুলবেন; এর’পর হাসিমুখে ফিরবেন বাড়ি। স্বামী পৈচাশিক আনন্দ নিয়ে ঘরে ফিরলেও, জ’ঙ্গলেই নিথর হয়ে পড়ে আছেন অন্তঃসত্ত্বা আছমা। গতকাল বৃহস্পতিবার দু’পুরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি গহীন জঙ্গল থেকে পু’লিশ ও স্বজনরা নিহত আছমা বেগমের লাশ উদ্ধার করে।

স্বামী আলম’গীর, শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে আসামি করে নিহত আছমার পিতা আলী মিয়া বা’দী হয়ে চুনারুঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। করা হয়েছে। এ ছা’ড়া তার মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন আছে। আলমগীর স্বীকারোক্তিতে জানি’য়েছে, দাম্পত্য কলহ ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র ক’রে সে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে।

মাধবপুর বাজারে কেনাকাটা, চা বাগান, পাহা’ড় দেখা ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বেড়ানোর কথা বলে স্বামী-স্ত্রী মি’লে একটি সিএনজি অটোরিকশা ১৫ শ টাকায় ভাড়া নিয়ে বাড়ি থে’কে বের হয়। মাধবপুর বাজারে সামান্য ঘোরাফেরা করে রাস্তার দু’পাশে চা বাগান দেখে সকাল ১০টার দিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পৌঁছে।

চাল’ককে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখে স্বামী-স্ত্রী মিলে সাত’ছড়ির দক্ষিণের গহীন জঙ্গলে ঢুকে যায়। ২ ঘণ্টা পর আলমগীর আছমা’কে জঙ্গলে রেখে একা ফিরে আসে। এ সময় তার চোখেমুখে বিষণ্ন’তার ছাপ দেখে অটোরিকশাচালক জানতে চায়, ‘আপনা’র সঙ্গী কোথায়?’

জবাবে আলমগীর বলে, ওই নারী খারাপ চরি’ত্রের। তাকে জঙ্গলে রেখে চলে এসেছি। সে অন্য পুরুষের সঙ্গে খারাপ কা’জে লিপ্ত রয়েছে। আছমার পিতা জানান, আলমগীরের সঙ্গে আছমার বিয়ে হয় ৩ ব’ছর আগে।

বিয়ের পর আছমার শ্বশুর নূর ইসলাম আছমার সোনার গয়না বি’ক্রি করে দেয়। সেগুলো ফেরত চাইতে গেলে বহুবার শ্বশুর ও স্বামীর সঙ্গে আছ’মার ঝগড়া হয়। এ কারণে আছমাকে স্বামী আলমগীর জঙ্গলে নিয়ে পরিক’ল্পিতভাবে তাকে খু’ন করেছে। স্ত্রীকে হত্যা করে বিকেলে বাড়ি ফির’লে আলমগীরের কাছে আছমার পরিবারের লোকজন তার সন্ধান জান’তে চাইলে সে অসংলগ্ন জবাব দেয়।

Back to top button