ইউক্রেন সংকটে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির শঙ্কা বাংলাদেশের

ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন আজ শনিবার দশম দিনে গড়ালেও এখনো বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই সংঘাতে পোশাক রপ্তানি খাতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। চলমান এই রুশ আগ্রাসন যত স্থায়ী হবে, ক্ষতির পরিমাণ তত বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই সংঘাতের প্রভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির গতি কমে গেছে। আগের অর্ডারের পণ্য সরবরাহ আটকে আছে অনেক, নতুন করেও খুব একটা অর্ডার আসছে না। এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার ফলে লেনদেনে অনিশ্চয়তা তো রয়েছেই। সবমিলিয়ে একদিকে সুতাসহ কাঁচামাল আনা এবং পণ্য পৌঁছে দেওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জাহাজসহ পণ্য পরিবহন ব্যয় আরো বাড়বে- এমন শঙ্কায় অনেকে ঝুঁকি নিতে চাইছে না। পোশাক খাতের শঙ্কা নিয়ে ভাবনার কথা বলেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি, বিজিএমইএ ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বিকেএমইএ।

সংগঠন দু’টির নেতারা বলছেন, পূর্ব ইউরোপের এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে পোশাক রপ্তানি খাত। জানা যায়, রাশিয়ায় বর্তমানে সাড়ে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের পোশাক যায়। ইউরোপে রপ্তানি হয় আরো সাড়ে ৩০০ মার্কিন ডলারের, ৪০ বিলিয়ন ডলারের নতুন বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনাও হাত ছাড়া হচ্ছে এই যুদ্ধের কারণে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে অন্যান্য দেশে এই খাতে রপ্তানি বাড়াতে হবে।

চলমান সংঘাতে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাজারে সবেচেয়ে বেশি যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- তেল-গ্যাস, গম, ভুট্টা, সরিষা, মসুর ডাল। এসব পণ্যের রপ্তানিকারক ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে দেশীয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন, বিজিবিএ’র সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার সংঘাত দ্রুত বন্ধ না হলে পোশাক খাতের ক্ষতি বাড়তেই থাকবে। সরকারি তথ্যমতে, গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত রাশিয়ায় ৪১৫ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়।

Back to top button