বিয়ের আসর থেকে পালানোর চেষ্টা বরের, এরপর…

ঢাকার ধামরাইয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের ভয়াবহ অভিশাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। আর বিয়ের আসর থেকে পালাতে গিয়ে আটক হয়েছেন বর ও কনের বাবা। পরে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন তারা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদেরকে জরিমানা করেছে নগদ ৬০ হাজার টাকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালান।শুক্রবার রাত ৭টার দিকে পৌরশহরের ৯নং ওয়ার্ডের তালতলা কমিশনার মোড় এলাকায় আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তালতলা কমিশনার মোড় মহল্লার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে ও ধামরাই হার্ডিঞ্জ সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার নবম শ্রেণির ছাত্রী শামীমা আক্তারের মতামত উপেক্ষা করে শুক্রবার রাতে ঘটা করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। বর টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার দূনিগ্রামের মো. শাহআলমের ছেলে মো. সাজ্জাদুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে পড়ানোর কাজও চলছিল।

খবর পেয়ে রাত ৭টার দিকে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় বাড়ি ছেড়ে পালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন ওই স্কুলছাত্রীর বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক ও বর মো. সাজ্জাদুর রহমান। ১৮ বছরের আগে বিয়ে না দেয়ার শর্তে মুচলেকা দিয়ে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হলেও কনের বাবাকে ৫০ হাজার ও বরকে ১০ হাজার টাকা (মোট ৬০ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আবু সাঈদ বলেন, আমার ওয়ার্ডে কোনো বাল্যবিয়ে হবে না। তাই বিষয়টি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসতিয়াক আহমেদকে জানাই। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে দিতে নিষেধ করেন।

কিন্তু তার কথায় কর্ণপাত না বরে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবার বিয়ে পড়ানোর আয়োজন করে। পরে বিষয়টি ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্য বিয়ে বন্ধ দেই। কনের বাবাকে ৫০ হাজার ও বরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

Back to top button