ইবিতে বন্ধুকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে বহিরাগতদের জন্মদিন পালন!

বর্তমানে কারোর জম্মদিনে কেক কাটাসহ নানা আয়োজনে উদযাপন করা হয়। তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের ব্যতিক্রমী জন্মদিন উদযাপন দেখে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই।

বন্ধু রিমনের জন্মদিন। বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। তখন কেউ তাকে ডিম ছুড়ছে, কেউবা আটা মাখাচ্ছে, কেউবা মাথায় বালু মাখাচ্ছে, আবার কাউকে চড়-থাপ্পড় দিতেও দেখা যায়। চমকপ্রদ উপহার দিতে কিংবা খুশি করতে এমনই আয়োজন বলে জানান তার কাছের বন্ধুরা।

বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রেখে দূরে গিয়ে ভিডিও করেন তার বন্ধুরা। দেখে মনে হবে, বড় কোনো অপরাধে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তাকে। এমনটি ভেবে ক্ম্পাোসের শিক্ষার্থীরাসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। কাছে এসে জানতে পারেন, বন্ধুর জন্মদিন পালন করা হচ্ছে।
গতকাল শনিবার বিকালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনের সামনে এমনই দৃশ্য দেখা যায়। তাদের কেউই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। ক্যাম্পাস সংলগ্ন দুঃখী মাহমুদ ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত তারা। স্থানীয় হওয়ায় ক্যাম্পাসে অবাধে যাতায়াতের পাশাপাশি সহসাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছে তারা।

জানতে চাইলে জন্মদিন পালনকারী শিহাব ও মামুন জানায়, বন্ধুর জন্মদিন পালনে এ ধরনের উদযাপন এখন ট্রেন্ড। আমরাও মজা করতেই এমন করছিলাম।

তবে তাদের বন্ধু রিমন জানায়, এ ধরনের উদযাপন করবে বন্ধুরা আমি ভাবিনি। আমি প্রথমে মজা পেলেও পরবর্তীতে বিরক্ত হয়েছি।

উদ্ভট এই জন্মদিন পালনের বিষয়টি দেখে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সিকিউরিটি অফিসার প্রক্টরিয়াল বডিকে জানালে বহিরাগতদের আটক করেন তারা। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ ধরনের উদযাপন অবশ্যই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ঢোকার মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Back to top button