পুরো বিশ্বে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর হুমকি দিলেন পুতিন!

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো যদি ইউক্রেনে নো-ফ্লাই জোন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে তাহলে ‘শুধু ইউরোপ নয়, পুরো বিশ্বকেই ভয়ঙ্কর ও ধ্বংসাত্মক পরিণতি’ ভুগতে হবে। পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনে নো ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হলে তাকে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সামিল বলে মনে করবেন।

ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর থেকেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদামির জেলেনস্কি বারবার ইউক্রেনের আকাশে নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছেন। যদিও তা বারবার প্রত্যাখান করে আসছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো।

কোন যুদ্ধ চলার সময় যখন কোন নির্দিষ্ট আকাশ সীমায় নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হয়, তার মানে হলো সেখানে সব ধরনের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে সেখানে কেউ কোন বিমান হামলা চালাতে বা নজরদারি করতে পারে না।কিন্তু এ ধরনের এলাকা ঘোষণা করা হলে সেটি সামরিকভাবেই কার্যকর করা হয়ে থাকে।

ইউক্রেনের আকাশসীমায় যদি ন্যাটো ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করে, তার মানে হলো, সেখানকার আকাশে রাশিয়ার কোনো বিমান দেখা গেলে গুলি করে ভূপাতিত করতে হবে। এর ফলে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।

আজ রবিবারও ইউক্রেনের আকাশে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদামির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ আইন প্রণেতা এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আলাপের সময়েও তিনি এই দাবি তুলেছেন।

কিন্তু ন্যাটো আবারও ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে, কারণ এর ফলে পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন আজ এগারোতম দিনে গড়িয়েছে। বিশাল এক রুশ সেনা বহর গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে দেশটির রাজধানী কিয়েভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। মাঝখানে কিছু সময় সেই সেনা বহর থমকেও গিয়েছিল। তবে আজ আবার সেই সেনা বহর উত্তর ও পশ্চিম দিক থেকে কিয়েভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিয়েভকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তারপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে রুশ সেনাদের।

Back to top button