কিয়েভে সর্বাত্মক হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া

 ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজধানী কিয়েভে সর্বাত্মক হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া।  ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযানের ১২তম দিন সোমবার (৭ মার্চ)। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য নিয়ে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের দেওয়া বিবৃতিতে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের বিবৃতিতে বলা হয়, কিয়েভ শহরে হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জড়ো করতে শুরু করেছে রুশ বাহিনী। ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে বিভিন্ন পদাতিক সেনাদল কিয়েভের নিকটবর্তী শহর ইরপিনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখান থেকে হামলার ভিত্তি প্রস্তুত করবে তারা।

এতে আরও বলা হয়, বেলারুশ থেকে চেরনোবিল হয়ে সৈন্যদের জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে সেনা কমান্ডাররা। চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘বর্জন অঞ্চল’ দিয়ে জ্বালানি পাঠানো হচ্ছে।

সেই সঙ্গে খারকিভ, চেরনিহিভ, সুমতি ও মাইকোলাইভিভের দখলে আরও গুরুত্ব বাড়িয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যেই ইরপিন শহরে মর্টার শেল হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে বিবিসি। বোমা হামলা থেকে বাঁচতে ইরপিন শহর ছেড়ে পালাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের বেশ বড় আকারে রাশিয়ার বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ বাড়লেও গত দুইদিনে রাশিয়ার সৈন্যদের অগ্রগতি কমে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের বিশ্বাস গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার সৈন্যরা খুবই কম এগোতে পেরেছে। ইউক্রেনের যোদ্ধাদের শক্ত প্রতিরোধ আর দুর্বল সরঞ্জাম সহায়তার কারণে তারা ব্যাপক বাধার মুখে পড়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেশটির প্রতিদিনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া খুব তাড়াতাড়ি তাদের পরিকল্পিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে, সেই সম্ভাবনা খুব কম। তবে তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের শহরগুলোর সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় বেশ বড় আকারে রাশিয়ার বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি খারকিভ, মাইকোলায়িভ, চেরনিহিভ ও মারিওপোল লক্ষ্য করে হামলা বেড়েছে।অপরদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আলোচনা অথবা যুদ্ধ, যেভাবেই হোক রাশিয়া লক্ষ্য অর্জন করবে। ইউক্রেন অস্ত্র না ছাড়লে দেশটিতে চলমান রুশ অভিযান বন্ধ করা সম্ভব নয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে গতকাল রবিবার (৬ মার্চ) এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত অন্তত ৩৬৪ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ২৫টি শিশু রয়েছে। আর হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ৭৫৯ জন।

তবে জাতিসংঘ বলছে, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ ভারী গোলাবর্ষণ, বিস্ফোরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

Back to top button