নিষেধাজ্ঞার উল্টো ফল ভুগতে শুরু করেছে আমেরিকাও, বিপাকে বাইডেন প্রশাসন?

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। তাদের সঙ্গে একজোট হয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আরও অনেক মিত্র দেশ। এতে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা বিপাকে পড়লেও এর ফল ভুগতে শুরু করেছে বিশ্বপরাশক্তি আমেরিকাও। ইতোমধ্যে এর নজিরও দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে।

ইউক্রেন সংকটের জেরে নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে তেলের বেঞ্চ মার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ছাড়িয়েছে ১৩৯ ডলার। পরে প্রতি ব্যারেলে তেলের বাড়তি এ দাম গিয়ে স্থির হয়েছে ১৩০ ডলারে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা প্রভাব ফেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজারেও। এ জন্য শত্রু রাষ্ট্রের কাছেও ধর্না দিতে হচ্ছে বলে গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।
জানা গেছে, তেলের বাজারের অস্থিরতায় বিপাকে পড়ে ভেনেজুয়েলায় ছুটছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। গত শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইউক্রেন হামলার ঘটনায় রাশিয়াকে একঘরে করতে এখন ভেনেজুয়েলাকেও পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

শুধু তা-ই নয়, এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের বড় বাজার সৌদি আরবেরও দ্বারস্থ হচ্ছে আমেরিকা। যদিও সৌদি আরব আগে থেকেই আমেরিকার মিত্র রাষ্ট্র। তারপরও ইউক্রেন সংকটের প্রভাবে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সৌদিতে সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই সফরে বাইডেন সৌদি কর্তৃপক্ষকে তেলে উৎপাদন আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানাবেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

যদিও হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনও সফরের পরিকল্পনা করা হয়নি। এটি বিভিন্ন গুজবের একটি অংশ মাত্র।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাশক্তি রাশিয়া। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের এই দেশে অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। আজ সোমবার অভিযানের দ্বাদশতম দিন। ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি নগরী দখল করে নিয়েছে রাশিয়ার সেনারা। এতে দেশটির বিভিন্ন নগরীতে হতাহত হয়েছে বহু সংখ্যক মানুষ।

রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের এই সামরিক অভিযানের অর্থ যুদ্ধ নয়। বরং বিশ্বব্যাপী একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ প্রতিহত করার লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনকে নাৎসিমুক্ত করা, দেশটির নিরস্ত্রিকরণ ও ন্যাটো জোটে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তি প্রতিহত করার জন্য তিনি এই অভিযান চালাচ্ছেন। সূত্র: বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমস

Back to top button