সিনেমার পিছনে দৌড়ানোটা ঠিক হবে না -মেহজাবীন

টেলিভিশন নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা মেহজাবীন চৌধুরী। অভিনয় দিয়ে দর্শক মনে আলাদা স্থান করে নিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওটিটি প্লাটফর্মেও কাজ শুরু করেছেন। ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এর ব্যানারে প্রথমবারের মতো ওয়েব সিরিজে অভিনয় করলেন তিনি। নাম ‘সাবরিনা’। পরিচালনা করেছেন আশফাক নিপুণ। ‘সাবরিনা’র গল্প ও সেখানে আপনার চরিত্রটি কেমন? মেহজাবীন বলেন, গল্পটা নারীকেন্দ্রিক। এখানে নারীদের ওপর নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হবে।

আমি নাম ভূমিকায় অর্থাৎ সাবরিনার চরিত্রে অভিনয় করেছি। সাবরিনা পেশায় চিকিৎসক।

এই সিরিজে অভিনয়ের জন্য প্রস্ততি নিতে হয়েছে অবশ্যই? এই অভিনেত্রী বলেন, অনেক বড় একটা প্রস্তুতির দরকার ছিল। আসলে প্রত্যেকটা কাজই নিজের শতভাগ দিয়ে করার চেষ্টা করি। আমরা বাংলাদশি শিল্পীরা কতটা পরিশ্রম করে কাজ করি সেটা বলে বোঝানো সম্ভব না। হলিউডের কাউকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারি এ বিষয়ে। আমাদের বাজেট কম থাকে। এই সীমাবদ্ধতার মাঝেই অসাধারণ কিছু দিতে পছন্দ করি। তারই ধারাবাহিকতায় একজন ডাক্তারের হাঁটাচলা, চিন্তাভাবনা নিজের মধ্যে নিয়ে আসতে এবং স্ক্রিনে নিজেকে ডাক্তার হিসেবে প্রমাণ করাটা অনেক চ্যালেঞ্জের ছিল।

একজন ডাক্তার আমাকে গাইড করেছেন। বিভিন্ন বিষয় আমাকে বুঝিয়েছেন। হইচইকে অনেক ধন্যবাদ সিরিজটি প্রযোজনা করার জন্য। এই সময়ে এ ধরনের গল্প বলার উদ্যোগ নেয়া জরুরী ছিল। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? এ অভিনেত্রী বলেন, আমি যখন শুটিংয়ে থাকি তখন আমার মতো করে থাকতে পছন্দ করি। চরিত্রের মধ্যে থাকতে পছন্দ করি। এই গল্পের সঙ্গে আমি সহ পুরো ইউনিট অনেক ইনভলভ ছিল। তাছাড়া আমাদের হাতে সময় ও বাজেট ছিল। রিহার্সেল করতে পেরেছি শটের আগে।

আর ভালো একটা টিমও ছিল। আমি সব সময় টিম ওয়ার্কে বিশ্বাসী। যখন টিমের সবাই নিজের দায়িত্বটা পালন করতে পারে তখন ওই কাজটা ভালো হয়ে যায়। প্রায় তিন বছর পর আশফাক নিপুণের সঙ্গে কাজ করলেন। কেমন লেগেছে? মেহজাবীন বলেন, বাংলাদেশে যদি তিন জন পরিচালকের নাম নিতে হয় তার মধ্যে আশফাক নিপুণের নাম নিতে হবে। ওনার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতটা সবসবসময় অন্যরকম। অন্যরকম বলতে, ভিন্নধর্মী গল্প পাওয়া যায়। আমাকে যে ভালো গল্প দিতে পারে তার প্রতি একটা সফট কর্নার কাজ করে এবং সেই জায়গায় অশফাক নিপুণ একশোতে একশো।

ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে আপনার প্রথম ওয়েব ফিল্ম ‘রেডরাম’। প্রথম ওটিটি প্লাটফর্মের কাজ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? মেহজাবীন বলেন, অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। যতটুকু আশা করেছি তার থেকে বেশি। ওটিটি প্লাটফর্মে একটু ব্যতীক্রমী কাজ হয়। ‘রেডরাম’ গতাণুগতিক ধারার বাইরের একটা গল্প ছিল। তাহলে ভিন্নধর্মী গল্পের দিকে মানুষ কি ঝুঁকছে? মেহজাবীন বলেন, সবাই অনেক কাজ করে যখন বাসায় যাই তখন আসলে হালকা কিছু একটা দেখতে পছন্দ করি। আমি নিজেও তাই।

চাই না সারাদিন পরিশ্রম করার পর বাসায় গিয়ে খুব ভারি কিছু দেখবো। হয়তোবা সবাই একই চিন্তা করি। আমরা সব সময় বিনোদিত হতে চাই। তবে টেস্ট পরিবর্তন হচ্ছে। অবশ্যই ভিন্নধর্মী বিনোদনের প্রতি মানুষ ঝুঁকছে। এটা অনেক ইতিবাচক বলে আমি মনে করি। এজন্য ওটিটি প্লাটফর্মকে ধন্যবাদ দিতে হবে। তার মানে বাংলাদেশে ওটিটি প্লাটফর্ম সফল হবে বলে মনে করছেন? মেহজাবীনের উত্তর- যে কোনো কিছু আসলে সাকসেসফুল হতে ১০ বছর সময় দিতে হয়। তারপর সেটাকে নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত। সেটা কোনো বিজনেস হোক বা ক্যারিয়ার হোক, যেটাই হোক না কেন। ওটিটি প্লাটফর্মের যাত্রা বাংলাদেশে শুরু হলো মাত্র এক থেকে দেড় বছর হবে। আরও সময় দিতে হবে। নেটফ্লিক্স তো এক দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়নি।

ইনশাল্লাহ আমাদের বাংলা কন্টেন্টও প্লাটফর্মগুলোতে সফল হবে। আপনাকে সিনেমায় কবে দেখা যাবে? মেহজাবীন বলেন, বড় পর্দায় কাজ করার চাইতে বড় পর্দায় ভালো কাজ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য ভালো গল্প পেতে হবে। আগেই বলেছি ভালো গল্প আমাকে টানে। সেটা যেই মাধ্যমই হোক না কেন। আমি ভালো গল্পের সঙ্গে থাকতে চাই। আসলে মাধ্যমটাকে গুরুত্ব দিতে চাই না। আর সিনেমার পিছনে দৌড়ানোটা ঠিক হবে না। যদি দৌড়াই তাহলে আমার আসলে ভালো কাজ বা ভালো গল্প যেটা হয়তো টিভির জন্য করি বা করতে পারবো সেগুলো ছুটে যাবে। দেখেন আমি কিন্তু ওটিটিতে অনেকদিন ধরে কাজ করছিলাম না।

আমার সহকর্মী যারা আছেন তারা আগেই ওটিটিতে কাজ করে ফেলেছেন। কিন্তু আমি সময় নিচ্ছিলাম। কারণ আমি চাচ্ছিলাম আমার ডেবিউটা ভালো ভাবে হোক। সব কিছুই একটু ধীরে করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। যেদিন আমি বড় পর্দার সেরকম একটা গল্প পাবো, শতভাগ আত্মবিশ্বাসী থাকবো সেদিনই কাজ করবো।

Back to top button