লেভানদোভস্কির হ্যাটট্রিকে ব্রাজিলের ৭-১ গোলের হার মনে করালো বায়ার্ন

ফুটবলের ‘পাওয়ার হাউস’ যদি হয় জার্মানি, তাহলে তাদের আরেক শাখার নাম বায়ার্ন মিউনিখ। জার্মানদের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই যে বাভারিয়ানদের দখলে। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারিয়েছিল জার্মানি। এবার চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ ষোলোয় সলসবুর্গকে একই (৭-১) লজ্জা দিল বায়ার্ন মিউনিখ। মঙ্গলবার রাতে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে রবার্ট লেভানদোভস্কির রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকে বড় জয় পায় বায়ার্ন। প্রথম লেগে শেষ মুহূর্তে হার এড়ানো দলটি ৮-২ গোলের ব্যবধানে পৌঁছে গেলো ইউসিএলের শেষ আটে।

লেভানদোভস্কির হ্যাটট্রিকের পর প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ান সের্গে জিনাব্রি। বিরতির পর জোড়া গোল করেন টমাস মুলার। শেষ দিকে জালের দেখা পান লেরয় সানে। ঘরের মাঠে গোটা ম্যাচে ছিল বায়ার্ন মিউনিখের দাপট।

৭৩ শতাংশ বল দখলে রেখে মোট ১৮টি শট নেয় বাভারিয়ানরা। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৯টি। অপরদিকে ২৭ শতাংশ বল দখলে রাখা সলসবুর্গ ৭টি শটের ৪টি লক্ষ্যে রাখে।

দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় বায়ার্ন মিউনিখ। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লেভানদোভস্কির নিচু শট ঝাঁপিয়ে এক হাতে ঠেকান গোলরক্ষক।
পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে সলসবুর্গ। আট গজ দূর থেকে নিকোলাস কাপালদোর শট কিংসলে কোমানের পায়ে লেগে বাইরে যায়।

এরপর লেভানদোভস্কির ১১ মিনিটের ঝলক। ১২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল উৎসবের শুরু করেন পোলিশ স্ট্রাইকার। ২১তম মিনিটে আরেকটি স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। দুবারই তিনি নিজে প্রতিপক্ষের বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। ২৩তম মিনিটে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। মাঝমাঠ থেকে মুলারের লম্বা পাস ক্লিয়ার করতে বক্সের বাইরে বেরিয়ে আসেন সফরকারী গোলরক্ষক। তার শটে বল লেভানদোভস্কির পায়ে লেগে পোষ্টে লাগে। ছুটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান গত দু’বারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ম্যাচের শুরু থেকে সবচেয়ে কম সময়ে হ্যাটট্রিক এটি, ২৩ মিনিটে। ১৯৯৬ সালে ইন্টার মিলানের হয়ে রসেনবর্গের বিপক্ষে মার্কো সিমোনের ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক ছিল আগের রেকর্ড।

ইউরোপ সেরার মঞ্চে চলতি আসরে লেভানদোভস্কির গোল হলো ১২টি, সব আসর মিলিয়ে ১০৪ ম্যাচে ৮৫টি। তার চেয়ে বেশি গোল আছে কেবল লিওনেল মেসি (১২৫) ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর (১৪০)। ৮৫ গোল করতে মেসির লেগেছিল ১০৭ ম্যাচ, রোনালদোর ১২১। এবারের আসরে লেভানদোভস্কির এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এই মাঠেই গ্রুপ পর্বে বেনফিকার বিপক্ষে ৫-২ গোলে জয়ের ম্যাচে করেছিলেন প্রথমটি। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলারের হ্যাটট্রিক হলো ৫টি। তার চেয়ে বেশি আছে কেবল মেসি ও রোনালদোর, দুজনেরই সমান ৮টি করে।

৩১তম মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন জিনাব্রি। কোমানের পাস ধরে ডি-বক্সে ডান দিক থেকে শটে গোলটি করেন এই জার্মান ফরোয়ার্ড।
৫৪তম মিনিটে দারুণ গোলে স্কোরলাইন ৫-০ করেন মুলার। লেরয় সানের পাস বক্সে পেয়ে ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের শটে ঠিকানা খুঁজে নেন জার্মান ফরোয়ার্ড।

৭০তম মিনিটে সলসবুর্গকে সান্ত¡নামূলক গোলটি এনে দেন কমান কাইগার্ড। সতীর্থের পাস ধরে ডি-বক্সে জোরাল শটে ওপরের কোণা দিয়ে বল জালে পাঠান দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা এই ডেনিশ মিডফিল্ডার। ইউরোপ সেরার মঞ্চে ১৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারের এটিই প্রথম গোল।
৮৩তম মিনিটে লেরয় সানের অ্যাসিস্টে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মুলার। এক মিনিট পর লেভানদোভস্কির ব্যাকহিল ফ্লিকে বল পেয়ে স্কোরশিটে নাম লেখান সানে।

Back to top button