রাশিয়া ইস্যুতে পশ্চিমারা নাখোশ বাংলাদেশের ওপর?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে রেখেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই যুদ্ধের ওপর নিন্দা প্রস্তাবে বাংলাদেশ অন্য ৩৪টি দেশের মতো ভোটদানে বিরত থেকেছে। কিন্তু বাংলাদেশের এই ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থানকে পশ্চিমা বিশ্ব যেন মেনে নিতে পারছে না ঠিকঠাক মতো। তারা বরং এটিকে রাশিয়ার প্রতি বাংলাদেশের পক্ষপাত বলেই মনে করছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে কিনা এ নিয়েও কূটনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ একা না, ভারত, পাকিস্তান, চীনসহ বিশ্বের ৩৫টি দেশ এই প্রস্তাবের ওপর কোনরকম ভোটদানে বিরত থেকেছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটটা একটু ভিন্নতর বলেই কূটনৈতিক মহল মনে করছেন। কারণ নরেন্দ্র মোদির ভারত সরকার অনেক বড় দেশ। বিশ্বের অত্যন্ত প্রভাবশালীও বটে। তাছাড়া তারা এই প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট না দিলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দফা ফোরে কথা বলেছেন এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে এখন পরিচিত এবং পুরো বিশ্বের একটা দায়ে পরিণত হয়েছে। কাজেই পাকিস্তান কখন কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, না নিচ্ছে সেটি নিয়ে বিশ্বের খুব একটা মাথাব্যথা নেই। আর এ কারণেই এখন বাংলাদেশের উপরই সকলের নজর এবং বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিয়ে নানামুখী আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত কোন প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে এ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা রকম বিশ্লেষণ চলছে। যদিও বাংলাদেশ বলছে যে, বাংলাদেশ সবসময়ই যুদ্ধের বিরুদ্ধে।

তারা যুদ্ধ বন্ধ চায়। কিন্তু এই বিষয়ে তারা কোনো পক্ষে যেতে চায় না। কোনো পক্ষে যেতে না চাইলেও বাংলাদেশের এই নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের ওপর বিভিন্ন রকমের চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটতে পারে বলেই বিভিন্ন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের ওপর নানামুখী চাপ দিচ্ছে। বাংলাদেশকে গণতন্ত্র সম্মেলন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সাতজন কর্মকর্তার ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং সামনে আরও কিছু নেতিবাচক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেওয়া হতে পারে বলেও অনেকের শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এর মধ্যে যদি রাশিয়ার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার কঠোর অবস্থানে যায় তাহলে যেই দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের পক্ষে অবস্থান নিবে না তাদের ব্যাপারে এক ধরনের কঠোরতা আরোপ করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কথা শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কোনো চাপে ফেলা হবে কিনা সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে অনেকে মনে করছেন। পাশাপাশি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা সেটি নিয়েও বিভিন্ন রকম আলাপ-আলোচনা চলছে।

তবে কূটনৈতিক মহল মনে করছে যে, পশ্চিমা বিশ্ব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিপরীত অবস্থান বাংলাদেশের এটিই প্রথম নয়। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে থেকেছে এবং জোরালো ভূমিকা রেখেছে। তারপরও বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের তেমন অবস্থান হয়নি। তাছাড়া বাংলাদেশ নিজেই যে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সেটিও বাংলাদেশের জন্য একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশকে পশ্চিমা দেশগুলো তেমন সমর্থন দেয়নি।

এমনকি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশগুলোর ভূমিকা রহস্যময়। এরকম বাস্তবতায় পশ্চিমা দেশগুলো যে নাখোশ হলেই বাংলাদেশকে যে পশ্চিমা বিশ্বের সব কথা মেনে নিতে হবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Back to top button