লড়াইয়ে জিতলেন সাকিবই

কদিন পরপরই আলোচনার কেন্দ্রে সাকিব-বিসিবি ইস্যু। সাকিবও অবশ্য গত কয়েক বছর ধরে খেলার চেয়ে অন্যান্য বিষয়ে সবচেয়ে বেশি খবরের শিরোনাম হচ্ছেন।  ঝামেলা যেন শেষই হচ্ছেনা। এর কারণও অবশ্য সাকিব। হুট করেই সিরিজ খেলবেন না বলে বিপাকে ফেলে দেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দ. আফ্রিকা সিরিজে খেলবেন না বলেই তালগোলটা পাকিয়ে দেন সাকিব।

এর আগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও ক্লান্তির কারণে যাননি সাকিব। আইপিএলের কারণে ছুটি নেন ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে। সর্বশেষ এ বছর নিউজিল্যান্ড সফরেও ব্যক্তিগত কারণে দলে ছিলেন না।

সাকিবের হুটহাট সিদ্ধান্ত যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো উদাহরণ নয়, সেটি মানছেন জালাল ইউনুসও, ‘এটা কখনোই ভালো উদাহরণ নয়, এটা আমরাও স্বীকার করি। দলে আরও ১৪ জন ক্রিকেটার আছে। তারা তো সিনিয়রদেরই অনুসরণ করে। আমরাও চাইব সিনিয়রদের অবস্থানটা ইতিবাচক হবে। ’

কিন্তু সেই উদ্যোগ বিসিবি থেকে কোথায়? অনেক তর্জন-গর্জনের পরও শেষ দৃশ্যটা তো সেই একই-ছুটির দাবা খেলাটা আবারও জিতে।দুবাইয়ে থাকা সাকিবের সঙ্গে গত পরশু মুঠোফোনে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। কাল কথা বলেছেন ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান জালাল ইউনুসও। দুবাই যাওয়ার আগে সাকিব ওয়ানডে সিরিজ থেকে বিশ্রামের কথা বললেও সভাপতি এবং ক্রিকেট পরিচালনা প্রধানকে বলেছেন, তিনি ওয়ানডে, টেস্ট-কোনো সিরিজেই খেলতে চান না।

এরপর কাল বিকেলে ধানমন্ডিতে নাজমুল হাসানের কার্যালয়ে এ নিয়ে সভায় বসেন বিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তা। নাজমুল হাসান ও জালাল ইউনুস ছাড়াও সেখানে ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং বিসিবির পরিচালক ও জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ।

সভার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের জালাল ইউনুস জানিয়েছেন সাকিবকে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা। ব্যাখ্যাটা তো বলাই হলো। যেহেতু তিনি বারবার শারীরিক-মানসিক অবসাদকেই সামনে আনছেন, এ অবস্থায় তাকে জোর করে খেলাতে চায় না বিসিবি।

জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘সে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে আনফিট বলছে, তাকে বিশ্রাম দেওয়া দরকার। এ জন্য আমরা তাকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে ৩০ (এপ্রিল) তারিখ পর্যন্ত সব সংস্করণের ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকবে। ’

সাকিবকে ছুটি দেওয়া হলেও তার বিকল্প হিসেবে এই মুহূর্তে কাউকে আপাতত দক্ষিণ আফ্রিকায় নিচ্ছে না ক্রিকেট বোর্ড।পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্রামের বিষয়টি বিসিবি আরও পরিষ্কার করেছে। সাকিব এই সময়ে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো সংস্করণেই খেলবেন না।

বিসিবির বিশ্বাস, এটা যেমন তাকে মানসিক ও শারীরিক অবসাদ থেকে বের করে আনবে, তেমনি বিশ্রাম শেষে বাংলাদেশ দলও ফিরে পাবে সতেজ, ঝরঝরে সাকিবকে।দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পরও এ বছর অনেক ব্যস্ততা বাংলাদেশ দলের। শ্রীলঙ্কা দল বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ দল যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর জিম্বাবুয়ে সফরে। আছে এশিয়া কাপ আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও।

বিসিবি ভেবেছে, একটা সিরিজে ছুটি দিয়ে যদি বাকি সিরিজ আর টুর্নামেন্টগুলোতে পরিপূর্ণ সাকিবকে পাওয়া যায়, মন্দ কী! গত দুই দিনের ঢাকা-দুবাই কথোপকথনেও এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে তাকে। বিশ্রাম শেষে ফিরে খেলতে হবে সামনের সব খেলায়।

আর এরপরই সাকিবের দেশে ফিরে বোর্ডের সঙ্গে ‘বসা’র প্রস্তাব। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলবেন সেখানেই। তবে আর যাই হোক দিন শেষে এবারও ছুটির লড়াইয়ে জিতে গেলেন সাকিব সেটি বলাই যায়।

Back to top button