ঘোষিত হলো জাতীয় ফুল

মার্চের এই উত্তাল দিনগুলোতে শেকল ছেঁড়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষায় দূরন্ত দুর্বার হয়ে উঠছিল বীর বাঙালি জাতি। একাত্তরের এদিন চির পরিচিত শাপলাকে আমাদের জাতীয় ফুল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 শিল্পী কামরুল হাসানের আহ্বানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে আয়োজিত শিল্পীদের এক সভা থেকে এদিন গ্রামবাংলার চির পরিচিত শাপলাকে আমাদের জাতীয় ফুল করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা শেষে মুক্তিকামী মানুষকে সেদিন আরো বেশি উৎসাহী করে তুলতে তারা প্রতিবাদী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন বিলি করেন।

এসময় জাতিসংঘের তদানীন্তন মহাসচিব উ থান্ট এক নির্দেশে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত জাতিসংঘের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন সদর দপ্তরে ফিরে যান। এ নির্দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলাদেশের মানুষও এ পৃথিবীর বাসিন্দা। তাদের প্রতিও জাতিসংঘের দায়িত্ব রয়েছে।

অন্যদিকে ক্রমেই স্তিমিত হতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনীর কর্মকাণ্ড। লাগাতার অসহযোগ আন্দোলনের ফলেই পূর্ববাংলায় থাকা পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা দমে যেতে থাকে। মার্চের শুরুতে পতাকা উত্তোলন এবং ইশতেহার পাঠের পর থেকে বাঙালির স্বাধীনতা প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা আরো তীব্র হতে থাকে। পেশাজীবীরা পথে নেমে আন্দোলনে অংশগ্রহণ নেন।

এই দিনে পূর্ব পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। তারা আন্দোলনে অর্থের জোগান দিতে তাদের একদিনের বেতন দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এ দিনে রাস্তায় নেমে আসেন শিল্পী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কর্মজীবী সবাই। স্লোগানে স্লোগানে মাতিয়ে রাখেন ঢাকার রাজপথ। পূর্ব পাকিস্তানের সাংবাদিক ইউনিয়ন আন্দোলনকে জোরদার করতে, আরো সংঘবদ্ধ করতে রাজপথে নেমে আসে। পাকিস্তানবিরোধী স্লোগানে রাজপথকে উত্তাল করে তোলে জনতা।

এক ধরনের চাপা উদ্বেগে অস্থিরতা অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালি। অবরুদ্ধ গণমানুষ ভিতরে ভিতরে প্রস্তুত হচ্ছিলেন চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য। লক্ষ একটাই নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা।

কারণ ততদিনে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে উঠছিল যে, পশ্চিম পাকিস্তানি বেনিয়া দুর্বৃত্ত শোষকগোষ্ঠী বাঙালিকে তার ন্যায্য অধিকার কোনোদিনই দেবে না।

সুত্রঃ সোনালীনিউজ

Back to top button