‘আমি বেঁচে থাকলে তোমাদের সম্মান শেষ হয়ে যেতো’

শিক্ষার্থীর সুইসাইড নোট

আমি বেঁচে থাকলে তোমাদের সম্মান শেষ হয়ে যেতো। ও আমার সাথে খারাপ কিছু করেছে যা বলার মতো না। দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সুইসাইড নোট এটি। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। সুইসাইড নোটটিও উদ্ধার করে। এতে নির্যাতনকারীর নাম উল্লেখ করে গেছে ওই শিক্ষার্থী।

জামালপুর জেলার মেলান্দহ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের পূর্ব শাহাজাতপুরের বাসিন্দা ওই শিক্ষার্থী। সুইসাইড নোটে লেখে- মা, বাবা- ওয়াহাব চেয়ারম্যানের ভাতিজা আজকে সারাদিন আমাকে নিয়ে একরুমে কাটাইছে। ও আমারে খুব ডিস্টার্ব করতো। ও আমাকে বলেছে ওর সাথে দেখা করলে আমার জীবন থেকে চলে যাবে। কিন্তু ও আমার সাথে খুব খারাপ কিছু করেছে, বলার মতো না। বাবা, মা তোমরা ভালো থেকো আর ছেলেটির নাম তামিম আহমেদ স্বপন খান।

আরেক চিঠিতে সে লেখে, মা আমার সাথে ওয়াহাব চেয়ারম্যানের ভাতিজা আজকে একদিন একরুমে কাটাইছে। পারলে ক্ষমা করো। আর যদি কোনো বিচার করো ছেলেটার নাম তামিম আহমেদ স্বপন খান। মা বাবা তোমরা ভালো থেকো। আমারে ভুলে যেও। আমি বেঁচে থাকলে তোমাদের সম্মান শেষ হয়ে যেতো। বাবা, মা আমি আবার বলতেছি ভালো থেকো।

বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ওই ছাত্রীর মুঠোফোন ও সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। ওই ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার ঘটনায় জড়িত তরুণের বিচারের দাবিতে শুক্রবার সকালে মেলান্দহ থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন ওই ছাত্রীর স্বজন ও গ্রামবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে সে বিদ্যালয় থেকে ফেরে। সন্ধ্যার পর নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলে থাকতে দেখেন স্বজনরা। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। শুক্রবার বিকালে মেয়েটির দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ।

ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, এভাবে আমার মেয়েটার জীবন যাবে, আমি ভাবতেই পারছি না। ওই ছেলের কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ওই ছেলের বিচারের কথাও বলেছে আমার মেয়ে। থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ওই ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমএম ময়নুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা। তারপরও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

Back to top button