লক্ষ্মীপুরে অদ্ভুতভাবে ছড়িয়ে থাকা গাছের শিকড় নিয়ে কৌতুহল

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অদ্ভুতভাবে মাটির উপরে ছড়িয়ে আছে গাছের শিকড়। তবে গাছটি নাম জানে না কেউই। যদিও বাগান মালিক বলছেন এটি সিদুর কাঠ গাছ। জেলার অন্য কোথাও এ ধরণের গাছ না থাকায় স্থানীয়ভাবে এটি কৌতুহলের সৃষ্টি করছে। আশপাশের মানুষতো এটিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা এখন আর নাম জানার জন্য আগ্রহও প্রকাশ করছেন না।

এদিকে ১০ বছর ধরে শিকড়গুলো মাটির উপরে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের চরপাগলা ও চরলরেন্স গ্রামের বাসিন্দারা। বাগানের মধ্য দিয়ে স্কুল শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা হেঁটে যাওয়ার সময় শিকড়গুলো দেখলেও কখনো নাম জানার আগ্রহ প্রকাশ হয়নি তাদের। তবে গাছটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত না হলেও এর ফুল মেহগনি গাছের মতো দেখতে।

তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল মালেকের বাগানে গাছটি দেখতে পাওয়া যায়। ১৭টি গাছের শেকড় পুরো ১০ শতাংশ জমিতে মাথা উঁচু করে আছে। দেখলে মনে হয় যেন পিরামিডের মতো দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ১৫ বছর আগে দুবাই প্রবাসী আবদুল মালেক স্থানীয় নার্সারি থেকে গাছগুলো এনে রোপণ করেছেন। এক সাথে সারিবদ্ধভাবে প্রায় ৪০ টি গাছ রোপন করলেও এখন আছে ১৭টি।

তবে গাছগুলো লম্বাতে ৩০-৪০ ফুট হলেও মোটা নয়। এরসঙ্গে রোপন করা করই (রেইনট্রি) ও অর্জুন গাছ মোটা হলেও এটি চিকনই থেকে গেছে।স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজিম, মহিন উদ্দিন ও জাকির হোসেন জানায়, এ অঞ্চলের গাছগুলোর শিকড় মাটির নিচেই থাকে।

কিন্তু এ গাছগুলোর শিকড় অদ্ভুতভাবে মাটির উপরে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে এটি রহস্যময়। এটি দেখতে ভালোই লাগে। তবে গাছটির নাম নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। সাগরপাড়ের ও পাহাড়ি বনে এসব গাছের দেখা মেলে বলে তারা শুনেছেন।

প্রবাসী আবদুল মালেকের ভাই আবদুস শহিদ বলেন, জমি কেনার পর বাগানের জন্য নার্সারি থেকে গাছ কিনে আনা হয়। আমি ছোট ছিলাম। ভাইয়া গাছগুলো কেনেন। আমিও সঙ্গে ছিলাম। তখন নার্সারির মালিক বলেছিলেন এটি সিঁদুর কাঠ গাছ। এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে।

অনেকগুলো গাছ রোপন করা হয়। এরমধ্যে অধিকাংশই মরে গেছে। গাছ রোপণের ৫ বছরের মধ্যেই হঠাৎ শিকড়গুলো অদ্ভুতভাবে উপরে উঠতে দেখা যায়। এনিয়ে আমাদের মাঝেও কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অন্য কোথাও এমন গাছ দেখা যায় না।

Back to top button