রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আরো খারাপ হতে পারে করোনা পরিস্থিতি

রাশিয়ার হামলার পর গত ১৯ দিনে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আশঙ্কা, তাদের থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কোভিড পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

 ইউক্রেন সাথে সাথে তার প্রতিবেশী দেশগুলোকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। একইসাথে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করেছে, ইউক্রেনের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলো যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দুইদেশের এই যুদ্ধের প্রভাব করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে না পড়ে সে দিকটাও খেয়াল রাখার আর্জি জানানো হয়েছে।

ইউক্রেন ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়াদের থেকেই সংক্রমণ ছড়ানোর প্রভূত আশঙ্কা রয়েছে। কারণ প্রথমত, ইউক্রেনের বাসিন্দাদের মধ্যে টিকা দেওয়ার মাত্রা ৩৪ শতাংশ। যা অন্যান্য দেশের নিরিখে অত্যন্ত কম।

দ্বিতীয়ত, গত ৩-৯ মার্চ ইউক্রেন ও সংলগ্ন দেশগুলোতে করোনা সংক্রমণের হার অত্যধিক বেড়েছে। এই ছয়দিনে ইউক্রেনসহ পড়শি দেশগুলোতে সাত লাখ ৯১ হাজার ২১ জনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ১২ জনের। এই সংখ্যা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ইউক্রেনে যে করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে এবং আগামী দিনে আরও উত্তরোত্তর বাড়তে চলেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মাইক রায়ানও।তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে কোভিড টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া থমকে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে কোভিড পরীক্ষাও। আর এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের একটা কারণ।

যুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের প্রসঙ্গও তুলেছেন রায়ান। তার কথায়, এই শরণার্থীরা অজান্তেই ভাইরাস বহন করে আনতে পারেন নিজেদের সঙ্গে।এই সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য নানারকম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়ার মতো ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশগুলো শরণার্থীদের বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা ও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে ইতোমধ্যেই। তবে যেভাবে ইউরোপে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে, তাতে দু’দেশের এই যুদ্ধ সেই পরিস্থিতি আরো ঘোরালো করবে বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের জনগণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর প্রতি একটি বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা যেন ইউক্রেনের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোর ক্ষতি না করে। সেখানে বোমাবর্ষণ না করে।

এছাড়া, সীমানা পেরনোর সময় নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ারও আর্জি জানিয়েছে সংস্থাটি।

সুত্রঃ-আনন্দবাজার পত্রিকা 

Back to top button