অভিনেত্রীর শারীরিক তৃপ্তি মেটাতে ব্যাগে থাকে কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ

অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখানো শিক্ষিকার পরিচয় মিলল । স্ক্রিপ্টের প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠদৃশ্যে কোনো বদল হবে কি না। বা হলে কতটা বদল হবে। অভিনেতাদের শরীর কতখানি স্পর্শ করবে পরস্পরকে, তা আগে থেকে জানা যাবে কী করে, যাতে শর্ত ভাঙা হলে অভিনেতা বা অভিনেত্রীর হাতে আইনি পদক্ষেপ করার সুযোগ থাকে!

ভারতীয় সিনেমায় এই অভাবের জায়গাটি পূরণ করেছেন আস্থা খন্না। তিনি দেশের প্রথম ঘনিষ্ঠ দৃশ্য সমন্বয়কারী বা ওই সব দৃশ্যে অভিনেতাদের ‘শিক্ষক’। তার কাজ ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের সময় অভিনেতারা যাতে অস্বস্তি বোধ না করেন তা নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে যারা অভিনয় করছেন, তাদের অধিকার ভঙ্গ হচ্ছে কি না, বা তাদের অনিচ্ছায় কিছু করতে হচ্ছে কি না, সেই বিষয়গুলো দেখেন আস্থা। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ছবিতে এই কাজ করেও ফেলেছেন তিনি। তবে আস্থার মতে, ভারতীয় ছবির দুনিয়ায় যেখানে মুখের কথায় কাজ হয় বেশি, সেখানে তার কাজটি একটু কঠিন।

ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন আস্থা। তার ইচ্ছে ছিল পরিচালক হওয়ার। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজও শুরু করেছিলেন।

এখন সেই আস্থাই আইনি কাগজ প্রস্তুত করেন। তার বিশেষ ব্যাগে থাকে মহিলা অভিনেত্রীর শারীরিক উত্তেজনার জন্য কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ, পুরুষের উত্তেজনার মুহূর্তকে আড়াল করার জন্য অ্যাথলেটিক গার্ড, নগ্ন দৃশ্যে যাতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্পূর্ণ নগ্ন না হতে হয়, তার জন্য বিশেষ পোশাক, এ ছাড়া মিন্ট ট্যাবলেট, দাঁতের ব্রাশ, ডিওডোরেন্ট স্প্রে, নেল কাটার, লিস্টেরিন ইত্যাদি।

একটি ছবির সহ-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের এই সমস্যার বিষয়টি নজরে পড়ে আস্থার। তিনি দেখেন বিদেশে এই ধরনের দৃশ্যায়নের জন্য আলাদা পেশাদার থাকলেও ভারতে এমন কোনো পেশাদারের পরামর্শ নেওয়ার প্রচলন নেই। তিনি দায়িত্ব নেন।

নিজের চেষ্টাতেই তৈরি করেন ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের বিশেষ নির্দেশিকা। তবে আস্থা জানিয়েছেন, ভারতীয় সিনেমায় এখনও এই নিয়ে অনেক মানসিকতার সমস্যা রয়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজের ক্ষেত্রে তাকে কোনো অসুবিধায় পড়তে হয় না ঠিকই। তবে এখনও সিনেমার ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের সময়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় তাকে।

Back to top button