যে গ্রামে পুরুষ পুরোপুরি নিষিদ্ধ, তবুও গর্ভবতী হন নারীরা

এক-দুই নয়, গুনে গুনে তিরিশটি বছর! হ্যাঁ, ঠিক এতগুলো দিন ধরেই কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মুখ দেখেনি এই গ্রাম। এ গ্রামে কোনো পুরুষের প্রবেশ করার অধিকার পর্যন্ত নেই। গ্রামজুড়ে থাকেন কেবল নারীরা। অথচ সেই গ্রামের নারীরা স্বেচ্ছায় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, আধুনিক বিজ্ঞান যদিও সিঙ্গল মাদার কিংবা সিঙ্গল ফাদার হওয়ার পথ খুলে দিয়েছে, কিন্তু পৃথিবীর প্রান্তিক অঞ্চলগুলিতে সেই প্রযুক্তি এখনও পৌঁছায়নি। প্রাকৃতিকভাবেই সন্তানের জন্ম হয় সেখানে।

এ গ্রামটিও তেমনই এক প্রত্যন্ত গ্রাম। গ্রামটির ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ আফ্রিকায়। যার অনেকখানি অঞ্চল জুড়ে এখনও বসবাস করেন আধুনিকতার ছোঁয়া না পাওয়া বিভিন্ন উপজাতির মানুষেরা। তার ওপর কোনো শহরের কাছাকাছি এলাকায় নয়, এ গ্রামটি গড়ে উঠেছে ঘন জঙ্গলের মধ্যে। এমন এক দুর্গম এলাকায় কেবল নারীদের গ্রাম গড়ে ওঠার কারণ কী? আর কেনই বা সেখানে পুরুষের প্রবেশ নিষেধ?

আসলে এমন নিষেধের পেছনে রয়েছে এক কুৎসিত ইতিহাস। কালো মানুষের দেশ আফ্রিকা বারবার শ্বেতাঙ্গ, সভ্য মানুষদের নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছে। যার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত দাসপ্রথা। এ গ্রামটিও প্রকৃতপক্ষে তেমনই এক অত্যাচারের ফসল।

১৯৯০ সালে গ্রামটি গড়ে তোলেন ১৫ জন নারী। ব্রিটিশ সেনাদের হাতে ধর্ষিতা, নির্যাতিতা হয়েছেন বলে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন এ ১৫ জন নারী। তীব্র ঘৃণায় কোনো পুরুষের সঙ্গেই আর থাকতে চাননি তারা। সেই কারণেই তারা এই গ্রাম গড়ে তোলেন এবং সেখানে পুরুষদের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেন। এ গ্রামে নির্যাতিত নারীদের আশ্রয় দিতেও শুরু করেন তারা। বর্তমানে প্রায় আড়াইশ’ নারী রয়েছেন উমোজা নামের ওই গ্রামে।

কিন্তু ঘটনা হলো, পুরুষ প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও গর্ভধারণ করছেন গ্রামের নারীরা। না, কোনো অলৌকিক উপায়ে নয়। আসলে গ্রামের আশপাশের অঞ্চলের পুরুষদের মধ্যে থেকেই নিজেদের পছন্দমতো সঙ্গী নির্বাচন করেন তারা। কিন্তু গর্ভধারণের পর আর সেই পুরুষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেন না নারীরা।

এ গ্রামে সন্তানের অধিকার একান্তভাবেই মায়ের। একাই সন্তানকে বড় করার ভার নেন তারা। আর এভাবেই, নিঃশব্দেই এক আন্দোলন জারি রেখেছেন পৃথিবীর প্রত্যন্ত গ্রামের এ মানুষেরা।

Back to top button